অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় নিয়ে মানব বন্ধনের জেরে সৃসানজিত কর্মকার নামের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা কাকন কর্মকার পটুয়াখালী সদর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিক্ষার্থী সৃসানজিত কর্মকার পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম-দশম শ্রেণির ছাত্র। তিনি ২০২৫ সালে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে দেখা যায়, নবম শ্রেণির ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৪ জন সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এসএসসি মানের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা নবম শ্রেণির নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে। বিষয়টি নিয়ে এক মাস ধরে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে স্মারকলিপি দেন। দাবি আদায়ে সাড়া না পেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অভিভাবকদের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মানববন্ধন চলাকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারমিন আক্তার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তার প্রশাসনিক দপ্তরে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে দেশের কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না—এমন হুমকি দেন। এমনকি গুম ও খুনের ভয় দেখানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা কাকন কর্মকার জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে তিনি ছেলের কক্ষে গিয়ে তাকে দেখতে পাননি। তার আশঙ্কা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে অথবা আন্দোলন থেকে অভিভাবকদের সরে যেতে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার সন্তানসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কেউ আটকে রাখতে পারে বা গুম করে থাকতে পারে।
এমতাবস্থায়, সন্তানের সন্ধান দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ