আব্দুল মতিন মুন্সী (বোয়ালমারী) সংবাদদাতা: ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে নির্বাচনী লড়াই এখন কার্যত এক নতুন মোড় নিয়েছে। নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে সমর্থন দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, ফলে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
দোলনের সমর্থনে বদলে গেল ভোটের সমীকরণ
বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলাজুড়ে আরিফুর রহমান দোলনের রয়েছে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা ও অনুসারী। তার নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সমর্থকদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের প্রতি সমর্থন ঘোষণার মাধ্যমে তা দূর হয়েছে।
এখন দোলনপন্থী ভোটাররা একযোগে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমর্থনের ফলে স্বতন্ত্র ভোট বিভাজনের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে এবং নির্বাচনী মাঠে বিএনপি এখন সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম—ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনবান্ধব নেতা
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং দলের দুঃসময়ের একজন নির্ভীক সৈনিক। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও কখনো রাজপথ ছেড়ে যাননি। সাধারণ মানুষ মনে করেন—এই ত্যাগ ও সততাই তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করেছে।
মধুখালীর এক ভোটার বলেন,
“উনি শুধু নেতা না, আমাদের এলাকার একজন আপন মানুষ। বিপদে-আপদে আমরা সব সময় তাকে পাশে পেয়েছি।”
আলফাডাঙ্গার এক নারী ভোটারের ভাষ্য,
“আমরা এমন এমপি চাই যিনি জনগণের কথা বোঝেন। নাসির ভাই সেই মানুষ।”
দলীয় ঐক্যে শক্ত বিএনপি, মাঠে নেতাকর্মীদের জোয়ার
মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর সিদ্ধান্তে দলীয় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের পর তৃণমূল নেতাকর্মীরা এখন এক ছাতার নিচে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজে প্রতিদিন গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় অংশ নিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব ক্রমেই কমছে
জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও, দোলনের সমর্থন ঘোষণার পর তাদের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের সঙ্গে এখন স্বতন্ত্র ভোটের একটি বড় অংশ যুক্ত হওয়ায় ধানের শীষের বিপক্ষে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভোটের অঙ্কে স্পষ্ট এগিয়ে ধানের শীষ
ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লক্ষ ১০ হাজার ৫৫৬ জন।
তিন উপজেলায় রয়েছে ১৯৭টি ভোট কেন্দ্র ও ১,০০৬টি ভোট কক্ষ।
মাঠপর্যায়ের হিসাব বলছে—পরিবর্তনকামী ভোটার, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং দোলনপন্থী সমর্থন যুক্ত হওয়ায় খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এখন নির্বাচনী দৌড়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ