নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনের সময় এই বস্তির বাসিন্দা নারীদের মৌসুমি মিছিলে যাওয়ার ডাক পড়ে। তাঁরা মিছিলে গিয়ে পরিবারের জন্য একটু বাড়তি আয় করেন। এবার মিছিলের ভাড়া কমেছে। তারপরও তাঁরা যাওয়া বন্ধ করেননি। এক দিন গেলে ৫০ টাকা দেওয়ার কথা। তবে মিছিলে লোক বেশি হয়ে গেলে বরাদ্দ কমিয়ে ৪০ টাকা করে দিচ্ছেন। সাত দিন ধরে তাঁরা নিয়মিত মিছিলে যাচ্ছেন। এবার বিএনপির মিছিলে যাওয়ার জন্য বস্তির নারীদের বেশি ডাকা হচ্ছে।
রোববার প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা এই এলাকার লোকজনকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন।
নির্বাচনের সময় রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর নদীর ধারের বস্তির বাসিন্দা নারীদের মৌসুমি মিছিলে যাওয়ার ডাক পড়ে। তাঁরা মিছিলে গিয়ে পরিবারের জন্য একটু বাড়তি আয় করেন। এবার মিছিলের ভাড়া কমেছে। তারপরও তাঁরা যাওয়া বন্ধ করেননি। এক দিন গেলে ৫০ টাকা দেওয়ার কথা। তবে মিছিলে লোক বেশি হয়ে গেলে বরাদ্দ কমিয়ে ৪০ টাকা করে দিচ্ছেন। সাত দিন ধরে তাঁরা নিয়মিত মিছিলে যাচ্ছেন।
ওই মহল্লায় এটা নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে কোনো রাখঢাকও নেই। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যেকোনো দল টাকা দিলেই মিছিলে যান। এবার বিএনপির মিছিলে যাওয়ার জন্য বস্তির নারীদের বেশি ডাকা হচ্ছে। তবে বরাদ্দ কম।,
প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বললেন, ছেলেদের সব দিন কাজ হয় না। সংসার ভালো চলে না। মিছিলে তিনি দুই দিন গিয়েছেন। পিছে পিছে হলেও থাকেন। এবার ৫০ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর স্ত্রীও সঙ্গে যান। দুজন গেলে ১০০ টাকা হয়। তবে এবার দিনের দিন সব টাকা দিচ্ছে না। সব সময় এক দিন হাতে রেখে টাকা দিচ্ছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় তাঁদের মিছিল থেকে বেশি আয় হয়। কাউন্সিলরসহ প্রার্থী বেশি থাকে।
মিছিল তো ভাড়ায় করেন, ভোট দেবেন কিসে জানতে চাইলে লোকটি বললেন, ‘আমি তো ধানের শীষেই দিতে চাই। কিন্তু কাল বিকেলে রেলগেটের ওদিকে গিয়েছিলাম। গিয়ে শুনি সবাই শুধু পাল্লা পাল্লা বলছে। আমাকে বলছে, পাল্লায় ভোট দিতে হবে। কোনো জবাব দিইনি। শুধু শুনে গেলাম।’
স্থানীয় বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা এই এলাকার লোকজনকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি জানান, বিশেষ করে কাজ নেই, বাড়িতে বসে থাকেন—এমন নারী ও পুরুষেরাই একবেলা করে মিছিলে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা বলেন, এবার মিছিলের বরাদ্দ কম। টাকাই কম। তাই ৫০ টাকা করে দৈনিক দেওয়া হয়। তবে একসঙ্গে দেওয়া হয় না, এক দিন হাতে রেখে আগের দিনেরটা দেওয়া হয়। গত নির্বাচনে মিছিলে গেলেই মানুষ ১০০ টাকা করে পেয়েছে। তবে তিনি বললেন, পেটের দায়ে এই এলাকার মানুষ মিছিলে যায়, কিন্তু তাদের দিকে কেউ নজর রাখে না।
সূত্র-প্রথম আলো
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ