অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রাডার ধ্বংস হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাডারটি যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার অংশ। এই ব্যবস্থা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। থাড ব্যবস্থার শক্তিশালী রাডার দূরবর্তী স্থান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এবং প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে পরিচালিত করতে সহায়তা করে।
সামরিক তথ্য অনুযায়ী, একটি থাড রাডারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ থাড ব্যাটারির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সীমিত সংখ্যক থাড ব্যাটারি রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি রাডার অকার্যকর হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আগাম সতর্কতা ও নজরদারি ব্যবস্থায় সাময়িক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে স্বল্প-পাল্লার প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, একই সময়ে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সতর্কতামূলক রাডারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নজরদারি সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অভিযানে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি মজুতকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ