অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। প্রতি বছরের মতো এবারও যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে কর্তৃপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও নৌ-পথের চারটি পয়েন্টে তীব্র 'নাব্যতা সংকট' দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে লঞ্চ সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের কপালে। প্রশ্ন উঠেছে—সব প্রস্তুতি কি ডুবোচরের বাধায় ম্লান হয়ে যাবে?
পটুয়াখালী নদী বন্দরের তথ্যমতে, আসন্ন ঈদে যাত্রীচাপ সামলাতে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে নিয়মিত রোটেশন প্রথা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঢাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ৪টি করে লঞ্চ পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। পরদিন সকালে বন্দরে ৫টি পর্যন্ত বড় লঞ্চ একসাথে অবস্থান করার কথা রয়েছে।
অতিরিক্ত লঞ্চের বার্থিং নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের সামনের চর অপসারণে জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোঃ জাকী শাহরিয়ার বলেন, "ইতোমধ্যে তিনটি পল্টন এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আমরা বার্থিং সক্ষমতা বাড়িয়েছি।"
কর্তৃপক্ষ আশাবাদী হলেও লঞ্চ চালকদের কণ্ঠে ঝরছে উদ্বেগের সুর। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের পূবালী-১২ লঞ্চের সারেং সুমন হীরা জানান, রুটের সোনাকান্দা, কোবাই, বিশাইন কান্দি এবং মেঘনার প্রবেশমুখ গঙ্গার চর এলাকায় পানির গভীরতা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে কম।
তিনি বলেন, "এই ৪টি স্থানে দ্রুত ড্রেজিং করা বা নিসানা না দেয়া হলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি হবে। বর্তমানে ভাটার সময় আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝনদীতে নোঙর করে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ঈদে লঞ্চের সংখ্যা বাড়লে এই জট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।"
প্রাকৃতিক বা কারিগরি সমস্যার বাইরে মানুষের তৈরি ভোগান্তি (যেমন: পকেটমার, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কুলি হয়রানি) রোধে কঠোর অবস্থানে থাকছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরির কাজ চলছে।
টার্মিনাল এলাকায় সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ২৬ বা ২৭ মার্চ পর্যন্ত এই বাড়তি নিরাপত্তা ও তদারকি বজায় থাকবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, "পটুয়াখালী নদী বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া টার্মিনাল এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার বা যাত্রী হয়রানি রোধে সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে।"
বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা পটুয়াখালীবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেও, মাঝপথের ৪টি ডুবোচরই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ