আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা থানাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপি উত্থাপন না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সলঙ্গা থানা গঠিত হলেও এখনো এটি উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ অগ্রগতি থমকে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, সলঙ্গা থানা মূলত উল্লাপাড়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং রায়গঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন মোট ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ফলে এটি প্রশাসনিকভাবে দুটি সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সলঙ্গাকে উপজেলা করার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলার সংসদ সদস্যরা সলঙ্গাকে উপজেলা করার বিষয়ে জাতীয় সংসদে তেমন কোনো জোরালো দাবি উত্থাপন করেননি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সলঙ্গার গুরুত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে পৌরসভা গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে সলঙ্গাকে পৌরসভায় রূপান্তর করবেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে দাবি উত্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ-তাড়াশ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি আয়নুল হকও নির্বাচনের আগে একই প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর এখনো এ বিষয়ে সংসদে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সলঙ্গার সাধারণ জনগণ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। তার উদ্যোগেই সলঙ্গা পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
স্থানীয়দের মতে, সলঙ্গাকে পৌরসভায় উন্নীত করা হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে। এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করে সলঙ্গাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ