সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টায় শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্রথম গেইট এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির জনযুদ্ধ ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেন, “কেউ যদি গণআন্দোলনের কৃতিত্ব কুক্ষিগত করতে চায়, তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভালো হবে না।”
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হলেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২১ সালে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জেলার সাংস্কৃতিক পরিসরকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা চলছে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যে রাষ্ট্র ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, সেই রাষ্ট্র কেন একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধে ভূমিকা রাখবে?”
দেশে উগ্রবাদী প্রবণতার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের। “এই দেশের মাটিতে যেমন আজানের ধ্বনি শোনা যায়, তেমনি বাউল গানও শোনা যায়। যেমন কোরআন তেলাওয়াত হয়, তেমনি সংগীতচর্চাও চলে। এটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য,” বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ধর্মীয় চর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি চলেছে। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর উপদেষ্টা ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক, সরাইল উদীচীর সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইফতেখার জাবেদ, ‘সোনালী সকাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মুনতাসিরসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।
এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিকেল ৩টা থেকে শাহবাজপুর প্রথম গেইট এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ