নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তিন উপদেষ্টা-আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এসব অভিযোগ সামনে আসে। তবে অভিযুক্ত তিনজনের কেউই এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি।
আসিফ নজরুল: বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো বিচার বিভাগে সরাসরি হস্তক্ষেপ। একাধিক আইনজীবী অভিযোগ করেন যে, তাঁর উদ্যোগে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সকল বিচারপতির একযোগে পদত্যাগের ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ছাড়া বিচারক ও সরকারি আইনজীবী নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক দাবি করেন, তিনি পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন লাইসেন্স পেয়েছেন। এ খাতে মোট আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় দুই শত কোটি টাকা বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জনপ্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ছাত্রনেতার বরাত দিয়ে জানা যায়, পরবর্তী সময়ে ছাত্র উপদেষ্টারাও বদলি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান: পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের অভিযোগ
সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, পরিবেশ ছাড়পত্রে অনিয়ম এবং বন বিভাগে পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক উদ্যোক্তার দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে উপদেষ্টার পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার সহায়তা নেওয়া ছাড়া অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে এ অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়।
পলিথিন বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পলিথিন উৎপাদকদের সঙ্গে আলোচনার পর অভিযান স্থগিত করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাবেক রাজনীতিবিদ নসরুল হামিদের সম্পদ ক্রোকের উদ্যোগ নিলেও রাজধানীর গুলশান এলাকায় তাঁর নামে থাকা একটি প্লট তালিকা থেকে বাদ পড়ে। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে যে, রিজওয়ানার তদবিরে সংশ্লিষ্ট প্লটটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটির আনুমানিক মূল্য দুই শত কোটি টাকা।
গবেষণা প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম এবং ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে মন্ত্রণালয়টির বিরুদ্ধে।
আদিলুর রহমান খান: নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের চেষ্টা। অভিযোগ রয়েছে, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে যে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার নেপথ্যে তাঁর পরিকল্পনা ছিল। দুটি সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশের দ্রুত সাড়া না দেওয়ার পেছনে তাঁর নির্দেশনার বিষয়টি একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী এই ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন এবং আদিলুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
উল্লিখিত সকল অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে তিন সাবেক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের কেউই ফোন ধরেননি এবং বার্তার জবাব দেননি। ফলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ