সালাম মাহমুদ: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসির অন্দরমহলের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৬ই জুন এফডিসির বাগান সংলগ্ন করিডোরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চিত্রনায়িকা মুক্তি তাঁর প্যানেলের নতুন সভাপতি হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ফাইট ডিরেক্টর আরমান-এর নাম ঘোষণা করেছেন।
এর আগে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে সভাপতি পদ থেকে নায়ক বাপ্পারাজ সরে দাঁড়ালে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নায়িকা মুক্তি বেশ বিপাকে পড়েন। তবে সেই সংকট কাটিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আরমানকে প্যানেলের শীর্ষ পদে নিয়ে এসে মুক্তি বড় ধরনের চমক দেখালেন বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।প্যানেল ঘোষণার সাথে সাথে আরমান -মুক্তি প্যানেল নিয়ে সর্বত্র ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইটার থেকে ‘মুকুটহীন সম্রাট’: এক নজরে আরমানের কর্মজীবন চলচ্চিত্রের অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসেবে আরমান এক কিংবদন্তির নাম। তাঁর এই অবস্থানে আসার পেছনের গল্পটি দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক:
চলচ্চিত্রে আগমন: রূপালী পর্দায় আরমানের অভিষেক ঘটেছিল একজন সাধারণ ফাইটার এবং স্ট্যান্টম্যান হিসেবে।
গুরুদের সান্নিধ্য: ঢাকাই চলচ্চিত্রের অ্যাকশন কিংবদন্তি, প্রয়াত নায়ক ও প্রযোজক জসিম তাঁর ভেতরের প্রতিভা অনুধাবন করে তাঁকে নিজের বিখ্যাত "জ্যাম্বস ফাইটিং গ্রুপ"-এ নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে আরমান জসিমের প্রধান ফাইট ডিরেক্টর মুসলিম-এর সঙ্গে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন।
শীর্ষে আরোহণ: কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি একসময় স্বাধীনভাবে ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তৎকালীন বাংলা চলচ্চিত্রের এক নম্বর ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করেন।
প্রযোজনা ও পরিচালনা: শুধু মারপিটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁর প্রতিভা। ১৯৯৭ সালে ব্লকবাস্টার হিট চলচ্চিত্র "শান্ত কেন মাস্তান"-এর মাধ্যমে তিনি প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর "বাদশা কেন চাকর" চলচ্চিত্রে তিনি একাধারে প্রযোজক ও পরিচালকের দ্বৈত ভূমিকা সফলভাবে পালন করেন।
শিল্পী সমিতিতে অপরাজেয় এক নাম:
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ইতিহাসে আরমান এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিগত প্রতিটি ক্যাবিনেট বা কমিটিতে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। শিল্পী মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে যে, সাধারণত তাঁর বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস পান না।
নতুন সমীকরণ ও শুভকামনা
নায়ক বাপ্পারাজের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোয় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, ফাইট ডিরেক্টর আরমানের অন্তর্ভুক্তিতে তা কেবল পূরণই হয়নি, বরং মুক্তির প্যানেলকে নির্বাচনী মাঠে এক লাফে অনেকখানি এগিয়ে দিল।
এফডিসির করিডোরে ৬ জুন উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও চলচ্চিত্র কর্মীরা এই নতুন প্যানেলকে স্বাগত জানিয়েছেন। সভাপতি পদপ্রার্থী আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুক্তির এই নতুন জুটির জন্য চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই শুভকামনা জানিয়েছেন। শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আরমান -মুক্তি পরিষদের সফলতা কামনা করছি -সালাম মাহমুদ, প্রধান সম্পাদক, দৈনিক কালের সমাজ, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ