পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়ায় জমি কিনে রেজিস্ট্রেশন না পেয়ে উল্টো দফায় দফায় হামলা, মারধর এবং পরিকল্পিত মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে প্রতিপক্ষের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে ফেরারি জীবন কাটাচ্ছেন উপজেলার ছন্দহ গ্রামের প্রবাসী মোঃ আল-আমিন হোসেন ও তার পরিবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালে প্রবাসে থাকা অবস্থায় আল-আমিন জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় আব্দুল মান্নানকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকেই মান্নান জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয় শালিসনামা হলেও মান্নানের ভাই, সাবেক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক ক্ষমতার প্রভাবে জমি রেজিস্ট্রি করতে বাধা দেন।
জমি নিয়ে এই বিরোধের জেরে গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে আব্দুল মালেকের নির্দেশে মান্নান ও তার ছেলেরা আল-আমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের লাঠিসোঁটা দিয়ে গুরুতর মারধর করে। এই ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় মামলা হলে পুলিশ আব্দুল মান্নান ও তার এক ছেলেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামিরা জামিনে এসে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি পাবনা কোর্ট চত্বরে জামিন ঠেকাতে গেলে সেখানেও প্রকাশ্যে আল-আমিনের আত্মীয়দের মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান ও তার ছেলে আরাফাত প্রতারণা করে এলাকার মানুষের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই পাওনাদারদের হামলায় পাবনা সদর থানার মাসুমপুর বাজারে মালেক ও আরাফাত আহত হন। কিন্তু সাঁথিয়া থানার মামলা থেকে বাঁচতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে মোড় নিতে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে পাবনা সদর থানায় আল-আমিনের পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করে। সাংবাদিকরা মাসুমপুর বাজারের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঘটনার সময় আল-আমিনের পরিবারের কাউকেই সেখানে দেখা যায়নি এবং এই মারামারির সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বর্তমানে জমি ও টাকা হারিয়ে, মিথ্যা মামলার বেড়াজালে পড়ে অসহায় আল-আমিনের পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও পাওনা জমি ফিরে পাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ