মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জেলা কার্যালয়ের এক বিশেষ অভিযানে ১২০ (একশত বিশ) গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন, ২০২৬ খ্রি.) চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানা এলাকার একটি কাঁচা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকাল ১০:০০ ঘটিকা থেকে দুপুর ১৪:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ও জীবননগর থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মাদকবিরোধী বিশেষ চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানাধীন জীবননগর কাঁচা বাজারস্থ পান পট্টিতে অবস্থিত আসামী মোঃ আখের আলী (৫৫)-এর নিজ দখলীয় উত্তর ভিটা, দক্ষিণ দুয়ারী টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনীযুক্ত এককক্ষ বিশিষ্ট পান-সুপারির দোকানে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে দোকানের ক্যাশ বাক্সের ভেতর থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
অভিযানে মোট ১২০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। যার মধ্যে আখের আলীর দোকান থেকে উদ্ধারকৃত একটি পলিথিনের প্যাকেটের ভেতরে কাগজে মোড়ানো ৭টি গাঁজার রোল ছিল, যার মোট ওজন ১০০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৪,০০০ (চার হাজার) টাকা। এছাড়া বাকি দুই আসামীর প্রত্যেকের নিকট থেকে ১০ গ্রাম করে মোট ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন:
১। মোঃ আখের আলী (৫৫), পিতা- মৃত জমাদ আলী মন্ডল, মাতা- মৃত বানু খাতুন, সাং- জীবননগর বাজার, থানা- জীবননগর, জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
২। মোঃ কামরুল (৩০), পিতা- মোঃ মজিদ, মাতা- মোছাঃ কাজল, সাং- দৌলতদিয়ার কোরিয়া পাড়া, থানা- চুয়াডাঙ্গা সদর, জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
৩। মোঃ ইয়ামিন (৩২), পিতা- মোঃ আমির হোসেন, মাতা- নাসিমা বেগম, সাং- ইসলাম পাড়া, থানা- চুয়াডাঙ্গা সদর, জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
এই সফল অভিযানের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ বদরুল হাসান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মাদক মামলা রুজু করেন।
অভিযান চলাকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আমিনুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদক সেবন ও বহনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে ২ নং আসামী মোঃ কামরুল এবং ৩ নং আসামী মোঃ ইয়ামিনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
ডিএনসি, চুয়াডাঙ্গার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে জেলাকে মুক্ত রাখতে এবং তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এই ধরণের মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।