আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর সলিমাবাদ ও নাগরপুর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ঘাটের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ, চর সলিমাবাদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা যমুনার গর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে চর সলিমাবাদের ভূতের মোড় কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ ভুরভুরি, মাটিধস ও নদীতীর ক্ষয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি স্থানীয়দের।
ইতোমধ্যে এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী পাকা মসজিদসহ বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় চৌবাড়িয়া বিএম কলেজ, পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পয়লা দাখিল মাদরাসা, মিটুয়ানি উচ্চ বিদ্যালয়, বিনানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দেড় ডজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে লাখো মানুষের বসতি, কাঁচা-পাকা সড়ক, বাজার ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি হুমকির মধ্যে রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সরেজমিনে চর সলিমাবাদের ভূতের মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানসংলগ্ন নদীতীরে বড় বড় ফাটল ও ভুরভুরি সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানিতে ফেনা ও ঘূর্ণিপাকের কারণে ভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ।”
এ সময় চৌবাড়িয়া সিকদারপাড়া বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সানোয়ার, পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির্জা মো. আনিসুর রহমান, মিটুয়ানি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, পয়লা দাখিল মাদরাসার সুপার মো. শাহজাহান কবির, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম, শিক্ষক কারী মো. বাচ্চু মিয়া, আব্দুস সাত্তার, জাহাঙ্গীর সরকার ও হাদিসহ স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী ভাঙনরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তাদের দাবি, মিটুয়ানি পাকার মাথা থেকে ভূতের মোড় পর্যন্ত নদীতীর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি একটি স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এতে দেড় ডজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লাখো মানুষের বসতভিটা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও কৃষিজমি যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ