আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: সরকারি পেরিফেরি ছাড়াই তিন বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার কুতুবের চর মৎস্য আড়ত। আড়তটি থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হলেও সরকারের ঘরে জমা হচ্ছে না এক কানাকড়ি রাজস্বও। এদিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশেই গড়ে ওঠা মৎস্য আড়তটি এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় ব্যাপক যানজট, দুর্ঘটনা আর দুর্গন্ধের শিকার ভুক্তভোগীরা আড়তটি উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
জনদুর্ভোগ লাঘবে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার সচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদনে আড়তটি উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়।
লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিন বছর আগে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই, ধুবিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাসেল, আব্দুল মোন্নাফ, মাহবুব, সুলতান মেম্বর, লঙ্কেশ্বর হালদার, আব্দুল হান্নান, হাফিজুল ইসলাম, সাধন হালদার, কালা হালদার, শোভন ও নুরুসহ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এই আড়তটি গড়ে তোলে। আড়তটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।
তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আড়তটিতে ১৩৫-১৪০টি কাঁটা বসানো হয়েছে। প্রতিটি কাটা থেকে ৩ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও ৮-৯টি বরফকল স্থাপনের সময় প্রতিটি থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ওই সময় এককালীন প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও আব্দুল হাই ও মিজানুর রহমান রাসেল গং এই আড়তটি পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর উল্লেখিত আওয়ামী লীগ নেতারা অন্তরালে থেকে ফজলার রহমান ও আল-আমিন নামে দুজনকে সভাপতি-সেক্রেটারি বানিয়ে মূলত তারাই আড়তটি পরিচালনা করছে।
অভিযোগকারী মো. আক্তারুজ্জামান, ইসমাইল হোসেন, নূর মোহাম্মদ, লাভলু তালুকদার ও আমজাদ হোসনে স্থানীয় অনেকেই জানান, মহাসড়ক ও সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের পাশে জনবহুল এলাকায় এই আড়ত বসানোর ফলে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সলঙ্গায় ডিগ্রি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেই রাস্তার পাশে আড়তের কারণে অসংখ্য শ্যালো ইঞ্জিন চালিত লসিমন, ট্রাক-পিকআপ, অটোভ্যান যাতায়াত করে। যার ফলে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে রাস্তায়। এছাড়া মাঝে মধ্যেই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অপরদিকে মৎস্য আড়তের বর্জ্যে সারাদিনই ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে। এই এলাকার মানুষ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সলঙ্গা বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গাড়ুদহ নদীটিও মৎস্য আড়তের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে। নদীর পানিতে মানুষ কিংবা গবাদিপশুকেও গোসল করানো যায় না।
তারা বলেন, সরকারি পেরিফেরিভুক্ত না হওয়ায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই পরিচালিত করছে। আব্দুল হাই ও মিজানুর রহমান রাসেল গং এবং আরজু মাস্টারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুবের চর মৎস্য আড়ত কমিটির সভাপতি ফজলার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নুরনবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এসব বিষয় অনুসন্ধানে সাংবাদিকরা আড়তে গেলে মৎস্য সমবায় সমিতির লোকজন বাকবিতন্ডা শুরু করে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে এলাকাবাসী কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে এটি যেহেতু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আড়তটি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট চলমান রয়েছে। এ কারণে পেরিফেরির বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইয়াসির আরাফাত মিলন
স্বরস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ - প্রতিদিনের আলোচিত ক্ন্ঠ