আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি জানিয়েছে, এ অঞ্চলের মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সামরিক ঘাঁটিগুলো তাদের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর আল জাজিরা,
ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও কঠোর। একই সঙ্গে জানিয়েছে, সম্ভাব্য সংঘাত স্বল্পস্থায়ী বা সীমিত থাকবে না। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকবে না—গত বছরের জুনের মতো নয়, যখন মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অল্প সময়ের জন্য ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চালানো স্বল্পস্থায়ী বিমান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
আকরামিনিয়া বলেন, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর মারাত্মক দুর্বলতা রয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা আমাদের মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিনিরা যদি এমন কোনো ভুল হিসাব করে, তাহলে ঘটনাপ্রবাহ ট্রাম্প যেভাবে কল্পনা করছেন সেভাবে মোটেও এগোবে না। দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই ঘণ্টা পর টুইট করে বলা যে অভিযান শেষ।’
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প দুটি শর্ত দিয়ে বলেছেন, ‘প্রথমত, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।’ হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের অনেক বড়, খুব শক্তিশালী জাহাজ এখন ইরানের দিকে যাচ্ছে, আর যদি সেগুলো ব্যবহার না করতে হয়, তাহলে সেটা দারুণ হবে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী আঙুল ট্রিগারে রেখে প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এর আগে এই সপ্তাহে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেন, ‘আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনায় বসবে এবং একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত ও সহিংসভাবে তাদের মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম।’