নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের নজর এখন ৯৯ নম্বর সংসদীয় আসন খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) এর দিকে। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই আসনে প্রার্থী করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ কৃষ্ণ নন্দীকে। দলটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামায় আসনটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
খুলনা-১ আসনটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় ভোটারদের মন জয় করতে জামায়াত এবার কোনো মুসলিম প্রার্থী না দিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে বেছে নিয়েছে। প্রতিদিন স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রাম-গঞ্জ ও হাটবাজারে গণসংযোগ করছেন তিনি। সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন নিজের প্রতীকে। এই ‘চমক’ শুধু জামায়াতের জন্য নয়, পুরো দেশের রাজনীতির জন্যই একটি বিরল ঘটনা।
নির্বাচনে এই আসন থেকে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে আটজনই হিন্দু। এই তালিকায় রয়েছেন এক সময়ের জাতীয় পার্টির আলোচিত নেতা সুনীল শুভ রায়ও, যিনি বর্তমানে আরেকটি ইসলামী দলের ‘মোমবাতি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ভোটারদের মতে, এত বেশি হিন্দু প্রার্থী থাকায় ভোট একতরফা হওয়ার সুযোগ নেই। বাটিয়াঘাটা বাজারের ভোটাররা জানান, এখানে মূলত ‘ভোট ভাগাভাগি’র রাজনীতি চলছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজই বড় ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনী মাঠের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—বিএনপির আমির এজাজ খান এবং জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী। তাদের মধ্যে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
স্থানীয়দের মতে, কৃষ্ণ নন্দী একজন প্রভাবশালী দাদন ব্যবসায়ী। অনেক ভোটার তার কাছে ঋণী। অভিযোগ উঠেছে, শেষ মুহূর্তে ঋণের সুদ মওকুফ করার আশ্বাস বা ‘টনিক’ ব্যবহার করে তিনি ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খানের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বালুমহাল দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছে জামায়াত শিবির।
কৃষ্ণ নন্দী অবশ্য এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে হিন্দু-মুসলিম সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।” বিপরীতে আমির এজাজ খান দাবি করেন, হুমকি-ধমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি সবকটি কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
আসনটির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন এটিকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রত্যন্ত এই জনপদের বাজার ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
দীর্ঘ তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখলেও এবার তাদের অনুপস্থিতি এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটাররা চান একটি সুষ্ঠু ও ভীতিহীন পরিবেশ। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা এবং এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।,