রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করতে দেওয় হবে না: শিবির সভাপতি সাদ্দাম প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দূর্বলতা দেখা গেছে : মির্জা আব্বাস  আলমডাঙ্গা জনসভায় শরিফুজ্জামান শরীফ-জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সোচ্চারের জরিপ: উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিকে ভোট দিতে চান পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড–মৎস্য–বন বিভাগের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শাপলাপাতা মাছ ও জাটকা জব্দ চুয়াডাঙ্গায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের বার্ষিক সংস্কৃতিক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা  ৫৪ বছরে দুর্নীতির ফলেই দেশ পাঁচবার ‘চোরের স্বীকৃতি’ পেয়েছে: চরমোনাই পীর পটুয়াখালীতে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সময়ের শিক্ষাই

পটুয়াখালীতে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়নের পাড়-কার্তিক পাশা ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের নামে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়নে পাড় কার্তিক পাশা ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। সম্প্রতি মাদ্রাসায় একজন নিরাপত্তা কর্মী ও একজন আয়া নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরি প্রত্যাশী অভিযোগ করে জানান, তাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে নগদ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ভাই স্বপন মৃধা এবং সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত মাদ্রাসার ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষক বশির মোল্লা। এছাড়াও আয়া পদে সভাপতির এক ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে প্রায় ৫০ কাঠা জমি থাকলেও তা সভাপতি ও সুপার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এছাড়া মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ও ৩ জন স্টাফ থাকলেও প্রতি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৫ থেকে ৬ জন, যা শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “নিয়োগের নামে কোনো বাণিজ্য হচ্ছে না।” তবে কোন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিজ্ঞপ্তির কপি সভাপতির কাছে রয়েছে।”

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, “আমি একজন শিক্ষক, এলাকায় বেশি সময় থাকি না। কেউ যদি নিয়োগের নামে টাকা নিয়ে থাকে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।” তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।”

নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্বে থাকা আকরাম হোসেন জানান, “চাকরি দেওয়ার নামে কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া গুরুতর অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হবে।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



লাইক করুন