অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার—বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দীর্ঘদিন ধরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের দুর্নীতির কারণেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পাঁচবার ‘চোরের স্বীকৃতি’ পেয়েছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আয়োজিত পটুয়াখালী-১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসান বুখারীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ স্বাধীন করতে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে, অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। স্বাধীনতার পর আমাদের আশা ও লক্ষ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাস্তবতা হলো—স্বাধীন দেশে বসেই ভিনদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখনো বাধা রয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ যেন বিদেশিদের দ্বারা প্রতারিত না হয় এবং চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পায়—সে জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।”
ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী মহল ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বড় লক্ষ্য ধ্বংস করতে বিভিন্ন দলের নীলনকশা অনুযায়ী কাজ করছে। তারা একপর্যায়ে ঘোষণা দিয়েছে—ইসলামী হুকুমত অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, বরং প্রচলিত আইন ও নিয়মেই রাষ্ট্র চালাবে। তাহলে প্রশ্ন হলো—এই প্রচলিত আইনেই যদি রাষ্ট্র চলত, তবে গত ৫৪ বছর যারা দেশ চালিয়েছে, তারা নতুন করে আমাদের কী দিতে পারবে?”
তিনি আরও বলেন, “যে দেশে আজানের শব্দে শিশুদের ঘুম ভাঙে, সে দেশে ইসলাম মাথা উঁচু করে শক্তভাবে দাঁড়াবে। সেই সুযোগ এবার এসেছে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল হাসান বুখারী। বক্তব্যের একপর্যায়ে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “আমরা একা নই—আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন, আমাদের সঙ্গে উলামায়ে কেরাম রয়েছেন। আল্লাহ যদি কবুল করেন এবং আমাদের বিজয় দেন, তবে বাংলার ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব—এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
পরে তিনি পটুয়াখালী-১ আসনে দলীয় প্রতীক হাতপাখা প্রার্থী আবুল হাসান বুখারীর হাতে তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন এবং জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী সভা শেষে তিনি বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পটুয়াখালী ত্যাগ করেন।