মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় পোলিং এজেন্টদের মাস্টার ট্রেইনারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২:৩০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই), ঢাকার উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা। আর এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা অপরিসীম। পোলিং এজেন্টরা যদি তাদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাস্টার ট্রেইনাররা এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান তৃণমূল পর্যায়ের পোলিং এজেন্টদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন, যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংহত করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, “পোলিং এজেন্টরা যাতে নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে সাহসের সাথে কাজ করার জন্য তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি ও আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়।
আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো ছিল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী পোলিং এজেন্টদের আইনি অধিকার ও সীমাবদ্ধতা। ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ ব্যালট বক্স সিলগালা করা এবং ভোট গণনা পদ্ধতি।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (যদি ব্যবহৃত হয়) বা ডিজিটাল ডাটা এন্ট্রি সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা। ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত একজন এজেন্টের করণীয় ও বর্জনীয় কাজ।
কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রিজাইডিং অফিসার বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করার সঠিক পদ্ধতি।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা এবং মনোনীত অভিজ্ঞ মাস্টার ট্রেইনারগণ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বাস্তবধর্মী সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
শেষে প্রধান অতিথি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই নিবিড় প্রশিক্ষণের ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।