নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ সংশ্লিষ্ট সংস্কারের ওপর গণভোট শেষে দেশের আইনসভায় যুক্ত হচ্ছে দ্বিকক্ষ সংসদব্যবস্থা। এতদিন এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু থাকলেও গণভোটে অনুমোদন পাওয়ায় এখন থেকে সংসদ গঠিত হবে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ নিয়ে।
নিম্নকক্ষ গঠিত হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ নারী সদস্যের সমন্বয়ে। এই কক্ষ আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, কর আরোপ এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্নকক্ষের অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে নিম্নকক্ষের প্রথম অধিবেশন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্য নিয়ে এই কক্ষ গঠিত হবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সরাসরি নির্বাচন, পরোক্ষ নির্বাচন অথবা মনোনয়ন পদ্ধতির সমন্বয় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ, নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পৃথক বিধান রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।
সংসদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। বিল উত্থাপন, আলোচনা, সংশোধন ও ভোটাভুটির মাধ্যমে আইন পাস হবে। রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন ও সরকারি ব্যয়ের বৈধতা দিতেও সংসদের সম্মতি প্রয়োজন হবে। পাস হওয়া প্রতিটি আইনে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে।
সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকাররা। একটি অধিবেশন সমাপ্তির পর ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে। কার্যকর অধিবেশন পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি বা কোরাম নিশ্চিত করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থায় নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে। দ্বিকক্ষ সংসদ কাঠামোর মাধ্যমে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পর্যালোচনা ও ভারসাম্য যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।