বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এমপি অ্যাড রাসেল নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ: জুলুম এবং অন্যায় করে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ সারা দেশে ২০ হাজার কিমি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শালিখায় বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন : মাগুরা জেলা প্রশাসক নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের নিয়মিত আসর অনুষ্ঠিত  আলমডাঙ্গা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি এডভোকেট রাসেল,মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে  আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট রাসেলকে সংবর্ধনা বেলকুচিতে চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতন, থানায় মামলা  হাজিরা খাতায় ভূয়া স্বাক্ষর, প্রশিক্ষণ ও বীজ পাননি তালিকাভুক্ত কৃষকরা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় তেঁতুলিয়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে কেউ উত্তীর্ণ নয়

বেলকুচিতে চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতন, থানায় মামলা 

আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে চুরির অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে নির্মম ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবকের বাবা ও এক যুবক নিজেই ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ২২ তারিখ রবিবার উপজেলার দৌলতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে, জানান যায়, ২২ তারিখ বিকেলে শিমুল হোসেন ইফতারি ক্রয়ের জন্য দৌলতপুর বাজারে যায়। ইফতার নিয়ে আসতে দেরি হলে তার বাবা ইকবাল হোসেন দ্রুত দৌলতপুর বাজারে গিয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে দৌলতপুর বাজারে লোক মুখে জানতে পারে রাশেদুল ইসলামের নেত্বতৃে শিমুলকে দৌলতপুর বাজারের রফিকুল ইসলামের ইলেক্ট্রনিক্স দোকানের সামনে থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধুলগাগড়াখালী ঈদগাহ মাঠে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে তার বাবা মোটরসাইকেল যোগে ধুলগাগড়াখালী ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখে বটগাছের নিচে তার ছেলেকে তাদের হাতে থাকা লোহার রড, হাতুরী ও বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করতেছে। তার বাবা ছেলেকে বাঁচতে এগিয়ে গেলে রাশেদুল গংদের হাতে থাকা লোহার রড, হাতুরী ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকেও মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে।

পরে জোর পূর্বক কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে আবার মারপিট করতে থাকে। শিমুল চিৎকার দিলে বাবুসহ বেশ কয়েকজন শিমুলের হাত পা চেপে ধরে এবং আমির হামজা শিমুলের মুখের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে টেনে ধরে তখন মেহেরাফ আলী শিমুলকে তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মুখের ভিতরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরে রাশেদুলের হাতে থাকা হাতুরী দিয়ে শিমুলকে বাম চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। শিমুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে রাশেদুল গং শিমুলকে মৃত ভেবে উপজেলার ধুলগাগড়াখালী জামাই মোড়ে ফাঁকা রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিমুল ও তার বাবা ইকবাল হোসেনকে সিএনজিতে তুলে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিমুলের অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এনামুল হক বলেন, কিছু দিন আগে ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আব্দুল ওহাবের বাড়িতে চুরি হয়। চুরি করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ধুলগাগড়াখালী গ্রামের ইব্রাহিম হোসনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও মোতাহার শিফুলের ছেলে মেহেরাফ আলীসহ বেশ কয়েকজন ২১ তারিখে সকালে আমাকে চোর বলে সন্দেহ করে জোরপূর্বক ধুলগাগড়াখালী কেন্দীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে আজুগড়া বেরী বাঁধে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে চোর বলে এলোপাথারী মারপিট করতে থাকে। আমাকে বলে তুই চুরি করিস নাই আমরা জানি কিন্তু তুই চুরি করেছিস বলে স্বীকার কর। স্বীকার না করলে তোকে আজ আমারা এখন জীবনের মত শেষ করে দিবো তুই আরোও একজনের নাম বল। শিমুল হোসেন চুরি সাথে জড়িত এর নাম বলতে বলে আমি নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য আমি শিমুল হোসেনের নাম বলি। পরে ওরা আমাকে কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে জোর করিয়ে নেওয়া স্বীকারোক্তি তাদের মোবাইলে ভিডিও করে রেকর্ড করে। মাইক্রোতে করে শিমুল হোসেনকে ধরার জন্য তারা আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায় শিমুল হোসেনকে না পেয়ে বিকালে ধুলগাগড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে চলে যায়। আমি এই নির্মম নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার চাই।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ তারিখ রাতে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আব্দুল ওহাব আলীর বাড়িতে চুরি হয়। এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুলগাগড়াখালী গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে শিমুল হোসেন (২২) ও আব্দুর রহিমের ছেলে এনামুল হক (১৬) কে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা শুনেছি।

এ বিষয়ে বেলকুচি থানা পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার (তদন্তকারী) কর্মকর্তা আইনুল হক জানান, এ ব্যাপারে নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



লাইক করুন