বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এমপি অ্যাড রাসেল নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ: জুলুম এবং অন্যায় করে বেশি দিন টিকে থাকা যায় না  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ সারা দেশে ২০ হাজার কিমি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শালিখায় বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন : মাগুরা জেলা প্রশাসক নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের নিয়মিত আসর অনুষ্ঠিত  আলমডাঙ্গা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি এডভোকেট রাসেল,মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে  আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট রাসেলকে সংবর্ধনা বেলকুচিতে চুরির অপবাদে যুবককে নির্যাতন, থানায় মামলা  হাজিরা খাতায় ভূয়া স্বাক্ষর, প্রশিক্ষণ ও বীজ পাননি তালিকাভুক্ত কৃষকরা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় তেঁতুলিয়ায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে কেউ উত্তীর্ণ নয়

হাজিরা খাতায় ভূয়া স্বাক্ষর, প্রশিক্ষণ ও বীজ পাননি তালিকাভুক্ত কৃষকরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ে পাট বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, উপস্থিতি স্বাক্ষরে জটিলতা, ভূয়া স্বাক্ষর ও ফোন নম্বর ব্যবহার, এমনকি একই নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত করে সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা কার্যালয়ে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতি দেখা গেলেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পরে এসে স্বাক্ষর করেন।

অফিস সহকারী জয় কুমারকে চিঠি প্রেরণের জন্য পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তা। তবে তাৎক্ষণিক ফোনালাপে জয় কুমার জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনে এসেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা বলেন, আমার ভুল হয়েছে। চিঠির কথা ভুল বলেছি।

অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে পাট বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন, তারা বীজ পাননি।

তালিকায় নাম থাকা কৃষক কালাম বলেন, আমার নাম তালিকায় রয়েছে, অথচ আমি কোনো বীজ পাইনি।

আরেক কৃষক রহিজ উদ্দিন বলেন, আমি স্বাক্ষর জানি না। তাহলে তালিকায় আমার স্বাক্ষর এলো কীভাবে? যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমার বা পরিবারের কারও নয়। বীজ বাইরে বিক্রি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছি।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম মণ্ডল জানান, তিনি প্রশিক্ষণ নিলেও তালিকায় একই নাম ও নম্বর একাধিকবার রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ৫০০ টাকার খাবার ব্যাগ দেওয়ার কথা থাকলেও একই নামের বিপরীতে অর্থ কাকে দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ছোট বেড়া এলাকার মঞ্জুরুল ও সোনা উদ্দিনের নামে দেওয়া একই ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, তিনি বেলকুচির বাসিন্দা নন; বরং মেহেরপুর জেলার একজন বাসিন্দা এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের চেনেন না।

অভিযোগের বিষয়ে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভুল হতে পারে। আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

জেলা পাট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি নামাজে যাচ্ছি। পরে বিষয়টি দেখছি।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পাট বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকার কৃষক সমাজ।

 



লাইক করুন