মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও খুলনাসহ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফের অনুভূত হয়েছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা বেজে ৫৩ মিনিটে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের এই ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (সিএসইএম) এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনার সাতক্ষীরা অঞ্চলে।
রিখটার স্কেলে এর মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৩। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা কম হওয়ায় কম্পনটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চুয়াডাঙ্গা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন জামিনুর রহমান দুপুরে হঠাৎ করেই ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র কেঁপে উঠলে মানুষ ‘ভূমিকম্প’ ‘ভূমিকম্প’ বলে চিৎকার করে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
শহরের বহুতল ভবনগুলোতে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে সবথেকে বেশি ভীতি দেখা যায়। বড় বাজার, ফেরিঘাট রোড এবং কোর্ট মোড় এলাকায় মানুষকে আতঙ্কিত অবস্থায় খোলা জায়গায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে জেলায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিটেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
গতকালের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিমে, যার মাত্রা ছিল ৪.৮। চুয়াডাঙ্গা থেকে সেই কেন্দ্রের দূরত্ব অনেকটা বেশি হলেও আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ঘরের কাছে (সাতক্ষীরা) হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেশি অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় কোনো দুর্যোগের আগাম সংকেত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বড় কোনো কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক (Aftershock) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পকালীন করণীয়:
১. আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন।
২. ঘরের ভেতর থাকলে শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন।
৩. বহুতল ভবনে থাকলে লিফট ব্যবহার করবেন না।
৪. খোলা জায়গায় বা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করুন।