শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের ডম্বলপুর গ্রামে জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ হামলা মূল্যবৃদ্ধির চাপে পুষ্টিহীনতা উদ্বেগজনক: দেশে ১১.৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে জমিজমা বিরোধে সংঘর্ষ: পিতা-পুত্রসহ ৭ জন আহত, ঘরবাড়ি ও ৩ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর আমাদের দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে: জামায়াত আমির দৌলতখানে অর্ধশতাধিক পরিবার পেল ‘নির্ভর ফাউন্ডেশন’ এর ইফতার সামগ্রী   ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১০ ভূমিকম্প, সর্বশেষ সাতক্ষীরাকেন্দ্রিক ৫.৪ মাত্রা ভূমি খাতের সমস্যা দূরীকরণে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর যাদুর ধোঁয়া  জনগণ কথন..  চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গার সেই ‘মুকুটহীন সম্রাট’ নুরুজ্জামান লাল্টুর বিদায়: এক রক্তাক্ত ইতিহাসের সমাপ্তি

মূল্যবৃদ্ধির চাপে পুষ্টিহীনতা উদ্বেগজনক: দেশে ১১.৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে দেশে পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে ৩৫ শতাংশের বেশি মানুষ খাদ্য-নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সুষম খাদ্য গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ডিম ও ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে ইফতার ও সাহরির প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পেট ভরানো গেলেও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

Global Hunger Index ২০২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, অপুষ্টিজনিত কারণে দেশে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ৩ শতাংশ শিশু পাঁচ বছর বয়স পূরণের আগেই মারা যাচ্ছে। দেশে আনুমানিক ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বাকায় এবং ১১ শতাংশ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। গ্রামীণ ও শহরতলীর নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। নারীদের পুষ্টিহীনতা গর্ভজাত শিশুর স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

USAID–এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ গর্ভবতী নারী ও শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ খাবারের পরিমাণ কমালে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। ডিম ও দুধের দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু-কিশোরদের প্রোটিন চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজধানীতে কর্মরত গৃহপরিচারিকা সুরভী জানান, বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাসাবাড়িতে কাজ করে অর্জিত আয়ের বড় অংশ ঘরভাড়া ও গ্রামের পরিবারের জন্য ব্যয় করতে হয়। খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় মাঝে মাঝে শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে গৃহকর্মী নার্গিস বেগম জানান, ছয় সদস্যের পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা। আগে এ আয় দিয়ে সংসার পরিচালনা সম্ভব হলেও বর্তমানে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি ও পানির সুষম উপস্থিতি প্রয়োজন। দৈনিক খাদ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শর্করা, ১৫ শতাংশ আমিষ এবং ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ স্নেহজাতীয় উপাদান থাকা উচিত। সুষম খাদ্যের ঘাটতি হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, আয়রনের অভাব, ওজন কমে যাওয়া এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রধানত শর্করানির্ভর খাদ্য গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলের বিকল্প হিসেবে রঙিন শাকসবজি গ্রহণ এবং মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম ও ডাল খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব।



লাইক করুন