ওসমান গনি:
“অসুস্থ এই পৃথিবী কে কাকে ফাঁসাবে, কার পিছনে বাঁশ দেবে—সারাদিন তাই নিয়ে ব্যস্ত।”
এই একটুকরো বাক্যই যেন আজকের সময়ের সবচেয়ে নির্মম সত্য। যেন সমাজের বুক চিরে দেখা এক বাস্তব প্রতিবেদন।
পৃথিবীটা আজ সত্যিই অসুস্থ। রোগটা বাইরে নয়, ভেতরে। ভাইরাসে নয়—মানুষের মনে। আমরা হাসি, কথা বলি, পাশে থাকি—কিন্তু ভেতরে ভেতরে হিসাব কষি, কে কখন হোঁচট খাবে।
এখন বন্ধুত্বের আগে লাভ-ক্ষতির অংক হয়। বিশ্বাস করার আগে সন্দেহ জন্মায়। কারো সাফল্যে অনুপ্রেরণা না নিয়ে, আমরা খুঁজি কোথায় তাকে টেনে নামানো যায়।
যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে—
কে কাকে আগে ফাঁসাবে,
কে কার সম্মান নষ্ট করবে,
কে কার পিছনে “বাঁশ” দিয়ে নিজেকে উঁচু দেখাবে।
কিন্তু একটা প্রশ্ন খুব জরুরি—
অন্যকে ফাঁসিয়ে কি সত্যিই জেতা যায়?
নাকি এতে নিজের মানবিকতাই একটু একটু করে মরে যায়?
আমরা ভুলে গেছি, পৃথিবীটা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। এটা সহযাত্রার পথ। এখানে সবাই পড়ে, সবাই উঠে দাঁড়ায়। কেউ একা জেতে না, কেউ একা হারে না।
মানুষকে ছোট করলে নিজে বড় হওয়া যায় না। অন্যের সিঁড়ি ভেঙে দিলে নিজের ছাদ তৈরি হয় না। হিংসা সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা রেখে যায়।
এই পৃথিবীকে অসুস্থ করেছে আমাদের লোভ, অহংকার আর প্রতিশোধের নেশা। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে খুঁজতে নিজের ভেতরের অন্ধকারটা দেখতে ভুলে গেছি।
একটা সুস্থ পৃথিবী চাই? তাহলে শুরুটা নিজের ভেতর থেকেই করতে হবে। কারো সাফল্যে জ্বলে না উঠে, হাততালি দিতে শিখতে হবে। কারো পতনে হাসার বদলে, হাত বাড়াতে শিখতে হবে।
মনে রেখো—পৃথিবীটা গোল। আজ তুমি যাকে ফাঁসাবে, কাল সেই ফাঁসই ঘুরে তোমার দিকেই আসতে পারে। কর্মের হিসাব খুব নিঃশব্দে, কিন্তু নিখুঁতভাবে মেটানো হয়।
অসুস্থ পৃথিবীকে গালি দিয়ে লাভ নেই। একজন মানুষ যদি সৎ থাকে, একজন মানুষ যদি মানবিক হয়—তাহলেই একটা ছোট পৃথিবী সুস্থ হয়ে ওঠে।
প্রশ্নটা তাই খুব ব্যক্তিগত—
তুমি কি ভিড়ের অংশ হয়ে থাকবে?
নাকি তুমি সেই একজন হবে, যে অন্ধকারের ভেতরেও আলো জ্বালাতে সাহস করে?
পৃথিবী বদলায় ধীরে।
কিন্তু একজন মানুষ বদলালেই—একটা পৃথিবী বদলে যায়।
কলমেঃ
ওসমান গনী
বোয়ালিয়া
চুয়াডাঙ্গা সদর