বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক গ্লোবাল এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মির্জাগঞ্জ শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হাওলাদার সৌদি আরবের উপহার ১২,৫০০ কার্টুন খেজুর: কোন জেলায় কত বরাদ্দ পাকিস্তানকে ১১৪ রানে গুটিয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আ’লীগ নেতা, এলাকায় ক্ষোভ সৌদি আরবের পাঠানো ৯২ কার্টন খেজুর নিয়ে বিভ্রান্তি: এখনও মাগুরায় পৌঁছেনি, বলছে প্রশাসন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ঐক্যে ‘এ্যাবজা’ জোট পুনর্গঠনের উদ্যোগ, গঠিত আহ্বায়ক কমিটি আলমডাঙ্গায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার দুই আসামি গ্রেফতার দেশি কাপড় ‘পাকিস্তানি’ বলে বিক্রি: ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা নাকি বাজারের পুরনো কৌশল? দুবাই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৪

দেশি কাপড় ‘পাকিস্তানি’ বলে বিক্রি: ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা নাকি বাজারের পুরনো কৌশল?

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ;স্টাফ রিপোর্টারঃ ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে দেশের কাপড়ের বাজার। তবে এই ব্যস্ত মৌসুমেই ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেট থেকে কেনা দেশি কাপড় ‘পাকিস্তানি কাপড়’ বলে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মাগুরার একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

মঙ্গলবার মাগুরা শহরের একটি বিপণি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ‘মেসার্স দেশি ভিনদেশি’ নামের দোকানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়। অভিযোগ পাওয়া যায়, ঢাকার পাইকারি বাজার থেকে কেনা দেশীয় কাপড়কে ‘পাকিস্তানি’ বলে দাবি করে উচ্চ দামে বিক্রি করা হচ্ছিল।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, দোকানটিতে থাকা বেশ কিছু কাপড়ের উৎস সম্পর্কে যাচাই করে দেখা যায়, সেগুলো আসলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা দেশি পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা। অথচ ক্রেতাদের কাছে সেগুলো বিদেশি, বিশেষ করে পাকিস্তানি কাপড় বলে পরিচয় দেওয়া হচ্ছিল। এতে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছিল।

এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, ঈদের মৌসুমে এমন প্রতারণা নতুন নয়। অনেক ব্যবসায়ী বিদেশি পণ্যের নাম ব্যবহার করে দেশি পণ্য উচ্চ দামে বিক্রি করেন। বিশেষ করে ‘পাকিস্তানি লন’, ‘ইন্ডিয়ান ডিজাইন’ কিংবা ‘থ্রি-পিস ইমপোর্টেড’—এ ধরনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হয়।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—বাজারে এমন অনিয়ম আরও থাকতে পারে। তাই ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করলে বা পণ্যের উৎস সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশি নাম ব্যবহার করে দেশি পণ্য বিক্রি করা শুধু প্রতারণাই নয়, এটি নৈতিকতারও প্রশ্ন। এতে একদিকে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, অন্যদিকে প্রকৃত দেশীয় পণ্যের সঠিক পরিচয়ও আড়ালে থেকে যায়।

তাদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি এবং সচেতনতা দুটিই জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও কেনাকাটার সময় পণ্যের উৎস, মান এবং দাম সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু একটি দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে, নাকি দেশের বিভিন্ন বাজারে একই ধরনের প্রতারণা আরও বিস্তৃতভাবে ঘটছে? সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য বাজারে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।



লাইক করুন