বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঝিনাইদহে ৪৮ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত ডাক্তারদের ওরিয়েন্টেশন  মার্কিন হামলার আশঙ্কার মাঝেই যুদ্ধের মহড়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ইজারা: এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা পৌরসভায় রেকর্ড ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার ডাক মির্জাগঞ্জে যুবদল নেতাকে চেইন দিয়ে পিটিয়ে জখমঃ মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড ঝালকাঠিতে ইয়াবা কারবারি যুবলীগের সদস্যের কামড়ে এসআই আহত,আটক ১ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন, আইনজীবীদের বিক্ষোভ বরিশালে বিচারকের অপসারণ দাবি পরিপূর্ণ বিশ্বাস অস্ট্রেলিয়া সিডনি অপেরা হাউজে ফেরদৌস আরার একক সংগীতানুষ্ঠান বড়াইগ্রামে রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন 

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা: মুসলিম লীগ সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ। তার দাবি, ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মোহসিন রশীদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে বহাল ছিলেন। সেই অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। তার ভাষায়, “এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, এটি ট্রিজন।”

মোহসিন রশীদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে দেশে সাংবিধানিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক; তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, অথচ ওই উপদেষ্টা তার কাছেই শপথ নিয়েছিলেন। মোহসিন রশীদের দাবি, প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কাজ। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানান তিনি। তার বক্তব্য, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার বিষয়েও তিনি আদালতে গেছেন বলে জানান এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন। রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ আবেদন করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে যেন কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মোহসিন রশীদ। সরকার যদি তদন্ত কমিটি গঠন না করে, তাহলে তিনি নোটিশ দিয়ে নিজেই মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেবেন এবং ড. ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন বলেও জানান। তার ভাষায়, “আগেও করেছি, আবারও করব।”



লাইক করুন