মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঝিনাইদহে ৪৮ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নবযোগদানকৃত ডাক্তারদের ওরিয়েন্টেশন  মার্কিন হামলার আশঙ্কার মাঝেই যুদ্ধের মহড়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ইজারা: এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা পৌরসভায় রেকর্ড ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার ডাক মির্জাগঞ্জে যুবদল নেতাকে চেইন দিয়ে পিটিয়ে জখমঃ মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থীকে মারধর, ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড ঝালকাঠিতে ইয়াবা কারবারি যুবলীগের সদস্যের কামড়ে এসআই আহত,আটক ১ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন, আইনজীবীদের বিক্ষোভ বরিশালে বিচারকের অপসারণ দাবি পরিপূর্ণ বিশ্বাস অস্ট্রেলিয়া সিডনি অপেরা হাউজে ফেরদৌস আরার একক সংগীতানুষ্ঠান বড়াইগ্রামে রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন 

সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ইজারা: এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা পৌরসভায় রেকর্ড ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার ডাক

খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল—সিন্ডিকেট ও নামমাত্র দরে ইজারার মাধ্যমে আলমডাঙ্গা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ও স্থাপনাগুলো বণ্টন হতো সীমিত কয়েকজনের মধ্যে। অবশেষে সেই চিত্র বদলেছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল–এর নির্দেশনা ও তদারকিতে এই প্রথমবারের মতো সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটা থেকে আলমডাঙ্গা পৌর কার্যালয়ে গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে উন্মুক্ত ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ও বাইরের বহু আগ্রহী ইজারাদার অংশ নেন। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দর উঠে আসে ৭ কোটি ২৮ লাখ ১২ হাজার ৬১৫ টাকা—যা পৌরসভার ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইজারা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক পান্না আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম দায়িত্ব পালন করে। গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে ডাক গ্রহণ করায় অংশগ্রহণকারীরা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সর্বোচ্চ ডাকে ইজারা পাওয়া উল্লেখযোগ্য খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে—

আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাটে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৫০ টাকা,

পৌর মোটরসাইকেল হাটে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার টাকা,

পৌর তহবাজারে ৬৫ লাখ ১৯৯ টাকা,

পৌর ছাগলের হাটে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা,

পৌর পানহাটে ১৮ লাখ টাকা,

পৌর সাইকেল হাটে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা,

পৌর অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ড (নতুন) ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা,

আনন্দধাম পৌর তহবাজার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,

পৌর বাস টার্মিনাল (গণশৌচাগারসহ) ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬০ টাকা,

পৌর জবেহখানা ৩ লাখ ৫ হাজার ১০৬ টাকা এবং

পৌর তাঁতীসেড গণশৌচাগার ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

এছাড়া রেলস্টেশন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মাছবাজার (নতুন) ও সাদা ব্রিজ সংলগ্ন গণশৌচাগারসহ অন্যান্য খাতও উন্মুক্ত ডাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি, মাদক ও সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি বিভিন্ন খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় উন্মুক্ত শিডিউল প্রকাশ, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ডাক গ্রহণ এবং প্রশাসনের কঠোর তদারকি—এই তিনটি পদক্ষেপই মূলত সিন্ডিকেট সংস্কৃতি ভাঙতে ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, “দীর্ঘদিন পর প্রকৃত প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে সীমিত কয়েকজনের মধ্যে দরপত্র ঘুরপাক খেত, এবার সবাই সমান সুযোগ পেয়েছে।”

পৌর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ফলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো সংস্কার এবং নাগরিক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—এ ধরনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



লাইক করুন