ইয়াসির আরাফাত মিলন: ভালোবাসলে বিয়ে করতে হবে বা বিয়ে করলেই একজন আরেকজনকে ভালোবাসবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
ভালোবাসার কারনে বিয়ের জন্ম হয়নি বরং বিয়ে নামক ইনস্টিটিউশনের তৈরি হওয়ার বড় কারণ ছিল সম্পদ ও জমির বন্টন বা দখলদারিত্ব, বংশ ও উত্তরাধিকার, রাজনৈতিক পারিবারিক জোট, শ্রম ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
প্রাচীন যুগে সম্পদ ও উত্তরাধিকার কাঠামোর কেন্দ্র ছিল কৃষিভিত্তিক সমাজ, সেখানে জমি ও পশু ছিল মূল সম্পদ। সেই সময়ে সন্তান কার এটা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী ছিল, যাতে উত্তরাধিকার ঠিক থাকে।
প্রাচীন আইনে যেমন হাম্মুরাবির বিধানে বিয়ের চুক্তি, যৌতুক, তালাক সবই সম্পদ ও দায়দায়িত্ব ঘিরে লেখা।
যেমন, জমির মালিক চাইবে তার সম্পদ নিজের কাছে রাখতে।
কিন্তু এটা নির্ধারণ করবে কিভাবে?
যৌন সম্পর্ককে সামাজিক আইনের মাধ্যমে একটা ইনস্টিটিউশন কাঠামো তৈরী হয় আর এটাই বিয়ে।
তাহলে বিয়েতে ভালোবাসা কোথায়?
রোমান্টিক ভালোবাসাকে বিয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা শুরু হয়েছে তুলনামূলক আধুনিক যুগে ইউরোপে ১৮–১৯ শতক থেকে ধীরে ধীরে। শিল্পায়ন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার সাথে মানুষ সঙ্গী বাছাইয়ে ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
আজকের সমাজে বিয়ে ভালোবাসার(থাকতে পারে নাও থাকতে পারে) সাথে আইনি ও সামাজিক কাঠামো জড়িত।
কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে বিয়ে ছিল ইনস্টিটিউশন। ভালোবাসা ছিল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা কখনও মিলেছে, কখনও মিলেনি।
তবে মানুষ যেহেতু কেবল অর্থনৈতিক সত্তা না। মানুষের নিজের প্রয়োজনে আবেগ, নিরাপত্তা ও সঙ্গির দরকারে বিয়েকে টিকিয়ে রেখেছে।
বিয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে আপনি কোন ফাংশনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তার ওপর।
কলমেঃ
ইয়াসির আরাফাত মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক
জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ
রামপুরা, বনশ্রী
ঢাকা -১২০৫