বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ মাগুরায় ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার অমানবিক আচরণে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাগুরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক সার্জেন্ট গৌরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—অর্থের লোভে মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে তিনি একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও জরুরি চিকিৎসা নিতে যেতে বাধা দিয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সোমবার সকালে সিংড়া বাজার এলাকা থেকে একজন অসুস্থ রোগীকে দ্রুত ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে মাগুরা শহরের দিকে আসছিলেন তার স্বজনরা। মোটরসাইকেলে চালকসহ তিনজন আরোহী ছিলেন—একজন রোগী এবং তার অভিভাবক। জরুরি পরিস্থিতির কারণে তারা বাধ্য হয়েই এভাবে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু পথে মাগুরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট গৌরব তাদের মোটরসাইকেলটি থামিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, মোটরসাইকেলের সব কাগজপত্র ঠিকঠাক ছিল এবং চালকের মাথায় হেলমেটও ছিল। তবুও ‘ওভারলোডিং’ আইনে তাদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার টাকার জরিমানার মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীরা সার্জেন্টের কাছে বারবার অনুরোধ করে জানান যে, তারা একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা অত্যন্ত গরিব মানুষ। ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করে যেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়—এমন আকুতি জানালেও সার্জেন্ট গৌরব তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি অপেশাদার ভাষা ব্যবহার করে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং এমন কিছু মন্তব্য করেন যা অনেকের মতে ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করেছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, সার্জেন্ট গৌরবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে তারা পুলিশ প্রধানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাগুরাবাসীর ভাষ্য, “আইন প্রয়োগ অবশ্যই জরুরি, তবে মানবিকতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করা আরও জরুরি। একজন অসুস্থ মানুষের জীবন-মরণের মুহূর্তে এমন কঠোরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ক্ষুব্ধ জেলাবাসী বলছেন—এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের ক্ষোভ থামবে না।