অপূর্ব সরকার,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পাখির আক্রমণ থেকে বীজ রক্ষায় সহজ ও কম খরচের একটি কৌশল ব্যবহার করছেন কৃষকরা। খেতের চারপাশে রং-বেরঙের পলিথিন ও পুরোনো ফিতা টাঙিয়ে বাতাসের শব্দ তৈরি করে পাখি তাড়ানো হচ্ছে। এতে বীজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে এবং স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বর্তমানে তরমুজ, সূর্যমুখী, ভুট্টা ও মুগ ডালের আবাদ শুরু হয়েছে। তবে বীজ বপনের পরপরই শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁক খেতে নেমে বীজ খেয়ে ফেলায় বেশ বিপাকে পড়ছিলেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত বীজ বপন করেও তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
এ অবস্থায় কৃষকরা ফাঁদ বা ক্ষতিকর উপায় না অবলম্বন করে সহজ একটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। জমির চারপাশে লাঠি পুঁতে রং-বেরঙের পলিথিন, পুরোনো ক্যাসেটের ফিতা ও প্লাস্টিকের টুকরা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাতাসে এগুলো দুলে শব্দ সৃষ্টি করে এবং নড়াচড়ার কারণে পাখিরা জমিতে নামতে ভয় পায়।
স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, তিনি তার জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। প্রথম দিকে পাখির আক্রমণে দুইবার বীজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে খেতের চারপাশে পলিথিন টাঙানোর পর এখন বীজ অনেকটাই নিরাপদ রয়েছে।
কৃষক জলিল প্যাদা বলেন, “ঝাঁক বেঁধে আসা পাখির কারণে আগে বীজ নষ্ট হয়ে যেত। এখন খেতের চারদিকে পলিথিন টাঙানোর পর পাখি আর সহজে জমিতে বসতে পারছে না।”
আরেক কৃষক দীপক জানান, আগে এই পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেই জানতেন না। ফলে বারবার বীজ বপন করতে হয়েছে। এবার বীজ বপনের পরই খেতের চারপাশে পলিথিন ঝুলিয়ে দেওয়ায় পাখির আক্রমণ অনেকটাই কমে গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, পাখির আক্রমণ থেকে ফসলের বীজ রক্ষায় কৃষকদের এই পদ্ধতি কার্যকর বলে দেখা যাচ্ছে। এটি সহজ, কম খরচের এবং পরিবেশবান্ধব একটি উপায়। কৃষি বিভাগও কৃষকদের এমন উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কম খরচে কার্যকর হওয়ায় এই কৌশল দ্রুতই উপজেলার বিভিন্ন কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে নতুন মৌসুমের আবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।