মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় এক মৃত ব্যক্তির ক্রয়কৃত জমি ও বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মালিকের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের কাছে বাড়ি বুঝিয়ে না দিয়ে বরং নিজেরাই জমি ও বাড়ির মালিকানা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখল বজায় রেখেছেন অভিযুক্তরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার কাষ্টদহ গ্রামের বাসিন্দা মোছা. মিলি খাতুন তার ভাই মৃত শফিকুল ইসলামের সম্পত্তি রক্ষার্থে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শফিকুল ইসলাম ২০০৫ সালের ২৯ জুন আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিকের কাছ থেকে ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমির ওপর পাঁচটি সেমিপাকা কক্ষবিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করে তা মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। বাড়িটি গাংনী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার কোনো সন্তান না থাকায় উত্তরাধিকারসূত্রে তার ভাই ও দুই বোন জমির বৈধ মালিক হন এবং তাদের নামে নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন রয়েছে। কিন্তু ভাড়াটিয়া থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি ও জমি দখল করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় নিজেদেরই জমির মালিক হিসেবে প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন—
১. মো. জাহাঙ্গীর, পিতা: মৃত করিম বিশ্বাস
২. মোছা. মমতাজ, স্বামী: মো. জাহাঙ্গীর
৩. মো. মানিক
৪. মো. সাগর (উভয়ের পিতা: মো. জাহাঙ্গীর)
৫. মোছা. সোনালী খাতুন, স্বামী: মো. মানিক
তাদের সবার বাড়ি গাংনী মহিলা কলেজপাড়া,
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই বাড়িতে বসবাস করলেও বর্তমানে তারা জমির মালিকানা দাবি করে বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে দখল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ জমি শফিকুল ইসলামের কেনা—এটা পুরো এলাকা জানে। তার মৃত্যুর পর তার ভাই ও বোনেরা বৈধ মালিক হয়েছেন। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা এখন জোর করে বাড়ি দখল করে রেখেছে এবং মালিকানা দাবি করছে।”
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সমাধানে রাজি হননি। পরে বাধ্য হয়ে তারা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন মো. মানিক বলেন, বাড়ির মূল মালিক ছিলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকারসূত্রে তার ভাই ও বোনেরা বর্তমানে জমির মালিক। তবে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তাদের টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। সেই সূত্রে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন তিনি। মানিক আরও বলেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে একটি এগ্রিমেন্ট পেপারও রয়েছে। তবে পেপার দেখতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের কাছে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।