সুমন হুসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ চুয়াডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা, চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক সিদ্দিক জামাল নান্টু (অভিনেতা হিসেবে পরিচিত নান্টু রাজ)-এর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো ১ মার্চ। তিনি ২০০৮ সালের ১ মার্চ ঢাকায় ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াত শিল্পীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
নান্টু রাজ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বাহাদুর আলী সরকার ছিলেন স্কুল শিক্ষক এবং মা শাহিদা খাতুন। ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ সন্তান। চুয়াডাঙ্গায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একজন সক্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ (১৯৭২)-এ অভিনয়ের মাধ্যমে। এই ছবিতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১১ জন যোদ্ধার একজন চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপরে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
নান্টু রাজ শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, সফল প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার পরিচালনায় ও প্রযোজনায় তৈরি বেশিরভাগ চলচ্চিত্র বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে: সারেন্ডার, বিদায়, গোলাগুলি, ভাংচুর, চিটার নাম্বার ওয়ান, রাজার ভাই বাদশা, ইজ্জতের লড়াই, রক্ত নিশান ও ভালবাসার যুদ্ধ। এছাড়া তিনি অভিনীত ছবির মধ্যে রয়েছে সঙ্গে সংগ্রাম, সূর্যগ্রহণ, কুয়াশা, অনুভব, ফান্দে পড়িয়া বগা, ঝড়-তুফান, বিক্ষোভ, কালাখুন, উত্তরের খেপ, আম্মাজান, জিদ্দী, রংবাজ বাদশা, ছোট বোন, প্রেমের দাবী, গোলামী, নীল সাগরের তীরে ইত্যাদি।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৭৭ সালে চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হকের কন্যা মাহমুদা হক নান্নি-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন সন্তান: বড় মেয়ে ডাঃ রেজওয়ানা সিদ্দিক, মেজ ছেলে তানভীর সিদ্দিক (নিউইয়র্কে ব্যাংক কর্মকর্তা) ও ছোট ছেলে সিফাত সানভী সিদ্দিক (রবি টেলিকমে চাকুরীরত)।
সিদ্দিক জামাল নান্টু ছিলেন সদালাপি, হাস্যোজ্জ্বল, আড্ডাপ্রিয় ও রসিক মানুষ। চলচ্চিত্রের আড্ডা এবং সামাজিক মিলনমেলায় তিনি সবসময় প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতেন। চুয়াডাঙ্গার “নান্টুরাজ” সিনেমা হলে তার নাম আজও সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন।
প্রয়াণ দিবসে শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্টু রাজের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাসহ তার অবদানের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি।