মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মার্চ মাসের মাসিক ‘কল্যাণ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
কল্যাণ সভার শুরুতেই পুলিশ সুপার মহোদয় সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধা ও নানা সমস্যার কথা গভীর মনোযোগ সহকারে শোনেন।
তিনি মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা করতে ইতিপূর্বে উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পর্যালোচনা করেন এবং নতুন সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।
বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও দাপ্তরিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অফিসার ও ফোর্সদের কর্মপরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভায় চাহিদার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন থানা, পুলিশ ক্যাম্প ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে প্রয়োজনীয় ক্রোকারিজ সামগ্রী এবং দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইনচার্জদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ০৮ (আট) জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নিজ হাতে এই কৃতি কর্মকর্তাদের সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।
পুরস্কার প্রদানকালে পুলিশ সুপার বলেন:
“ভালো কাজের স্বীকৃতি পেশাদারিত্ব ও কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত চুয়াডাঙ্গা গড়তে আমাদের প্রতিটি সদস্যকে আরও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
উক্ত কল্যাণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)। জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)। জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ও টিআই (প্রশাসন)। আরআই (পুলিশ লাইন্স) ও জেলার সকল ক্যাম্প ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যগণ।
সভা শেষে পুলিশ সুপার মহোদয় সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করার এবং পবিত্র রমজান মাস ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।