মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ছাত্রশিবিরের স্কুল ভর্তি লটারির অবসান, পরীক্ষা ভিত্তিক ব্যবস্থা শুরু এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী মঙ্গলবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু মার্কিন রণতরিকে সহায়তাকারীদের হামলার হুমকি ইরানের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ঝুঁকিতে করদাতার টাকায় কেনা শাড়ি-থ্রি পিসে দলীয় বৈষম্য? দিনাজপুর-৫ বঞ্চিত—দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ তেলের কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী

করদাতার টাকায় কেনা শাড়ি-থ্রি পিসে দলীয় বৈষম্য? দিনাজপুর-৫ বঞ্চিত—দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে শাড়ি ও থ্রি পিস বিতরণের অভিযোগ উঠলেও দিনাজপুর-৫ আসনে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি— এমন অভিযোগ সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারী তোফায়েল হোসাইন তালুকদার তার এক পোস্টে দাবি করেছেন, দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে সরকারি উদ্যোগে শাড়ি ও থ্রি পিস বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু দিনাজপুর-৫ আসনকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এই আসনে বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এমপি রেজওয়ানুল হক থাকায় নাকি রাজনৈতিক কারণেই এলাকাটি বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি তার পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকদিন আগেও রেজওয়ানুল হক বিএনপির অন্যতম বড় ডোনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অথচ রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর কারণে একটি পুরো এলাকার মানুষকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হলে তা জনগণের সাথে সরাসরি বৈষম্য করার শামিল।

তোফায়েল হোসাইন তালুকদার আরও লিখেছেন, “এই কাপড় কিনতে যে টাকা খরচ করা হয়েছে তা কোনো দলের ব্যক্তিগত টাকা নয়, এটা জনগণের করের টাকা। করদাতাদের টাকা দিয়ে কেনা জিনিস কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নিজের ইচ্ছামতো কেবল দলীয় লোকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারেন না।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার ভাষায়, “যদি দলীয় লোকদেরই দিতে হয়, তাহলে নিজের সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে কাপড় কিনে দিন। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করতে হবে।”

এই ঘটনা ঘিরে শুধু দিনাজপুর নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে বলে দাবি করছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় সরকারি সহায়তা বা উপহার বিতরণে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— যে বৈষম্য ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে মানুষ ২০২৪ সালের আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিল, সেই একই পথে আবার কেন হাঁটা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের দাবি, ক্ষমতায় যেই থাকুক না কেন, জনগণের করের টাকা দিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য চলতে পারে না।

সমালোচকদের ভাষায়, “যে পথে হাঁটতে হাঁটতে শেখ হাসিনার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছিল, সেই একই পথে যদি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনীতি হাঁটে— তাহলে পরিবর্তনের দাবি কোথায় রইলো?”

তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সরকারি সম্পদ ও সহায়তা অবশ্যই সবার জন্য সমান হতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ বা দলীয় পরিচয়ের কারণে কোনো এলাকার জনগণকে বঞ্চিত করা হলে তা গণতন্ত্র ও ন্যায্যতার পরিপন্থী।

এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশ এবং বৈষম্যের অভিযোগ দূর করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



লাইক করুন