আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রবিবার (৭ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তামাকমুক্ত, সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক আহামেদ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেশন) ডা. উম্মে হাবিবা, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সেখ, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আলী নওয়াজ চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বক্তারা শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ। এছাড়া ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বক্তারা তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।