শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চোরাই গরু জবাই করে ইফতার মাহফিল, জানাজানির পর মালিককে মূল্য পরিশোধ আলমডাঙ্গায় মানবাধিকার কমিশনের ইফতার ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি নিহত চুয়াডাঙ্গায় ফসলের মাঠে ল্যান্ড মাইন সদৃশ বস্তু, উদ্ধার কাজ করেছে যৌথবাহিনী কার্পাসডাঙ্গায় হিরন বিশ্বাসের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কপিলমুনিতে কোটিপতির ভবন বাঁচাতে নিসচা’র ব্যানারে মানববন্ধনে হতভম্ব এলাকাবাসী  সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা চাই: এমপি আলীম  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চুরির অভিযোগে কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, হাসপাতালে ১৫ ঘন্টা তালাবদ্ধ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ধর্ষণের অপরাধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না: আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ  তিন বছরেও চালু হয়নি পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ

চোরাই গরু জবাই করে ইফতার মাহফিল, জানাজানির পর মালিককে মূল্য পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের ওসমানীনগরে চোরাই গরু জবাই করে ইফতার মাহফিল আয়োজনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গরুর মালিককে ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং দায় স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম আহমদ ওরফে মধু মিয়ার বাড়িতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলের আয়োজনের জন্য তিনি আগে থেকেই বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের কাছে একটি গরু কেনার টাকা পাঠিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত গরু না কিনে তত্ত্বাবধায়ক অন্যের গরু এনে জবাই করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ইফতার মাহফিলে গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে এলাকায় একটি গরু চুরির ঘটনা সামনে এলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, মাহফিলে জবাই করা গরুটিই ছিল চুরি হওয়া গরু। বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় গরু আনার বিষয়টি শনাক্ত হয়।

ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী জানান, এম আহমদ দেশে আসার আগেই ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতির জন্য অর্থ পাঠিয়েছিলেন এবং গরু কেনার দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ককে দিয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ঘটনা জানার পর তিনি গরুর মালিককে ডেকে মূল্য পরিশোধ করেন।

গ্রামের বাসিন্দা রেজওয়ান আহমদের তথ্যমতে, তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারিত অর্থে গরু না কিনে অন্যের গরু মাঠ থেকে এনে জবাই করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়।

আরেক বাসিন্দা হোসেন আহমদ জানান, দীর্ঘদিন পর দেশে এসে এম আহমদ এলাকার মানুষের সঙ্গে ইফতার আয়োজনের উদ্যোগ নেন। ঘটনার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।

গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম জানান, তত্ত্বাবধায়ক তাঁর গরু নিয়ে গিয়ে জবাই করেছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে প্রবাসীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তিনি গরুর ন্যায্য মূল্য গ্রহণ করেছেন।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে সালিস অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক ঘটনার দায় স্বীকার করেন। এম আহমদ ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।



লাইক করুন