আজ দিনগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে কদর। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় রাত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতেই মানবজাতির পথনির্দেশের জন্য পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয় এবং এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কুরআনের সুরা কদরে উল্লেখ রয়েছে যে লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা এবং জিবরাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত রাতটি শান্তিময় থাকে।
রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলমানরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ রাতের ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করার নির্দেশনা রয়েছে। অনেক সাহাবি ২৭ রমজানের রাতকে লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অধিকাংশ ইসলামি পণ্ডিতের মতে, রমজানের শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে।
এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ এবং দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ আছে, এ সময়ে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার দ্বার উন্মুক্ত থাকে এবং আন্তরিকভাবে তওবা করলে বান্দার গুনাহ ক্ষমা হওয়ার আশা করা হয়।
হাদিসে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা অনুযায়ী, লাইলাতুল কদর পেলে পাঠ করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বিশেষ দোয়া শিক্ষা দেন, যাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাতকে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে পালন করেন।