চলুন আজ ‘মিতু’র গল্প শুনি। মিতুর স্বামী প্রতিদিন তাকে অপমান করে, গায়ে হাত তোলে। মিতু সব মুখ বুজে সয়, কারণ তার ৫ বছরের একটা ছেলে আছে। সে ভাবে, বাবা-মা আলাদা হয়ে গেলে বাচ্চার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।
ধরুন, একটা ছোট চারাগাছ বড় হচ্ছে এমন এক জায়গায় যেখানে প্রতিদিন অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। আপনি ভাবছেন গাছটা বেঁচে আছে এটাই বড় কথা। কিন্তু আসলে কি গাছটা কোনোদিন ফল দেবে? না, ওটা ভেতরে ভেতরে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
আপনার সন্তান যখন প্রতিদিন আপনাকে কাঁদতে দেখে, আপনার ওপর অত্যাচার হতে দেখে, তখন তার ছোট্ট মাথায় একটা ধারণা গেঁথে যায়, “সংসার মানেই মারামারি, আর ভালোবাসা মানেই সহ্য করা।”
সে যখন বড় হবে, সে হয় আপনার মতো নির্যাতিত হবে, না হয় তার বাবার মতো অত্যাচারী হবে। মাঝখানে কোনো সুস্থ জায়গা সে চিনবে না। আপনি ভাবছেন আপনি ত্যাগ করছেন, আসলে আপনি আপনার সন্তানের অবচেতন মনে একটা বিষাক্ত বীজ বুনে দিচ্ছেন।
এই যে “বাচ্চার ভবিষ্যৎ”, এটা আসলে আপনার এক ধরণের ইলিউশন বা মরীচিকা। অশান্তির সংসারে বেড়ে ওঠা একটা বাচ্চা কখনোই মানসিকভাবে সুস্থ থাকে না। সে সবসময় একটা অ্যাংজাইটি আর ভয়ের মধ্যে থাকে। তার কাছে ‘ঘর’ কোনো শান্তির জায়গা নয়, বরং একটা আতঙ্কের নাম।
পরিণত মানুষ হিসেবে আপনার বোঝা উচিত, একটা ভাঙা ঘরে শান্তিতে থাকা, একটা জ্বলন্ত প্রাসাদে পুড়ে মরার চেয়ে অনেক ভালো। আপনি যদি নিজে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তবে ওই বাচ্চাকে আপনি ছায়া দেবেন কীভাবে?
বাচ্চার মুখ চেয়ে যদি কিছু করতেই হয়, তবে তাকে একটা সুস্থ পরিবেশ দিন। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে টিকে থাকাটা ত্যাগ নয়, সেটা চরম বোকামি।
আপনার এই তথাকথিত ‘ত্যাগ’ কি আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ছে, নাকি তাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে? একবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো।
কলমেঃ
ইয়াসির আরাফাত মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক
জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ
রামপুরা, বনশ্রী
ঢাকা -১২০৫