জাহিদ হোসেন/মুস্তাফিজুর রহমানঃ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন মিশনারি মাঠ প্রাঙ্গণে কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩-২৫ মে তিন দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর সোমবার বিকালে সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এসময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
কবি নজরুল তার জীবনে কাজের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিদ্রোহী চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথ তৈরি করেছেন। মহান কবির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তার লেখনী তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিশা বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। কবির জীবন ও সাহিত্য কর্মের উপর আলেখ্যানুষ্ঠান, নজরুল গীতি, কবিতা আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নজরুল জয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এর আগে এদিন দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত খোলার দিন থেকেই শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হবে।
এসময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতায় যেসব বিচারিক আদালত রয়েছে, সেই আদালতগুলো ছুটির বাইরে রাখার জন্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনারা দেখবেন, ১ জুন থেকে রামিসার বিচার শুরু হচ্ছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম যে দিন অফিস আদালত খুলবে, ওদিনই রামিসার ঘটনার বিচার শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি জবানবন্দি দিয়েছেন। আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আমরা বিচারের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেছি।
সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহে এনসিপির সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা এনসিপি যেমন রাজনৈতিকভাবে দেখছে, বিএনপিও একইভাবেই দেখছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটা কেউ কামনা করে না এবং শোভনীয় নয়।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তরফদার সাবু, জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ-উর জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু, ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শরীফুল আলম বিলাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালহা, কৃষকদলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম সহ দর্শনা পৌর বিএনপির অন্যতম সমন্বয়ক আলহাজ্ব মশিউর রহমান সহ সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।