রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে সিএনজি চালকের মরদেহ উদ্ধার  তাড়াশে নববুধসহ দু নারীর মৃত্যু অযত্ন-অবহেলায় ঝোপজঙ্গলে ঢেকেছে বেলকুচি টেলিফোন অফিস, পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবনের অভিযোগ তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির অর্থায়নে গ্রামবাসীর একমাত্র চলাচলের রাস্তার কাজ বন্ধ চলাচলের রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর তাড়াশে অবরুদ্ধ ৪০টি পরিবার তাড়াশে গ্রাম্য বিরোধে একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ দুটি পরিবার এনায়েতপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাসমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এনায়েতপুরে নারী হেল্প ডেক্স সেবা সম্পর্কে অবগত করন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত ‎ সলঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরায় অপহরণের চেষ্টা, ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা বেলকুচিতে প্রভাব দেখিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, আতঙ্কে বৃদ্ধ পরিবার 

আমার চোখের সামসে ধ্বংস হয়ে গেল ওমরসানীর ক্যারিয়ার

একটু পেছনে ফিরে যাই:

১৯৯৩ সালের শেষের দিকে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ” ১জন সন্ত্রাসী ” ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হলো বারী স্টুডিও তে – আর ছবিটির প্রযোজক বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – জেড এইচ মিন্টু –

মহরতে উপস্হিত ছিলেন –

* আব্দুল জলিল মিন্টু ( এ,জে মিন্টু )

* আব্দুল লতিফ বাচ্চু ( বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – মিন্টু সাহেবের দাদা ওস্তাদ )

* মাহফুজুর রহমান খান ( বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – মিন্টু সাহেবের ওস্তাদ)

* মজিবুর রহমান দুলু ( বিখ্যাত সম্পাদক )

* চাষী নজরুল ইসলাম ( বিখ্যাত পরিচালক )

* অজিত নন্দী ( প্রযোজক – মিন্টু সাহেবের পার্টনার)

* প্রবীর পাল ( প্রযোজক – মিন্টু সাহেবের পার্টনার)

* মোহাম্মদ হান্নান ( বিখ্যাত পরিচালক)

* কাজী হায়াৎ ( বিখ্যাত পরিচালক)

* আলাউদ্দীন আলী ( বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক -এবং এই ছবিরও সঙ্গীত পরিচালক)

* সোহানুর রহমান সোহান ( বিখ্যাত পরিচালক)

* আসাদুজ্জামান মজনু ( মিন্টু সাহেবের সহকারী)

* লাল মোহাম্মদ ( মিন্টু সাহেবের সহকারী)

ওনারা ছাড়াও আরো ৩০ জন পরিচালক উপস্হিত ছিলেন, আমি তাদের নাম বলতে পারছি না, কারন আমি নতুন ছিলাম – এই ছবিটিতে জীবনের প্রথম সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি –

মহরত শেষ এখন গানের স্যুটিং শুরু করবেন বিখ্যাত নৃত্য পরিচালক – আমির হোসেন বাবু

এই ছবিতে আমরা ৩ জন সহকারী পরিচালক ছিলাম –

১. হক ভাই

২. আহমেদ আলী মন্ডল ভাই

৩. আমি রবিউল ইসলাম রাজ

সেট থেকে মেকাপ রুমে আমাকে ডেকে নিলেন পরিচালক আমজাদ হোসেন – বললেন ক্লিপবোড টি নিয়ে আসো, আমি তার পেছনে পেছনে গেলাম – মেকাপ রুমে – সবাই মিষ্টি খাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত –

মৌসুমী তার মহরতের ড্রেস খুলে গানের ড্রেস পরতেছেন,

আর আমাকে নিয়ে একটি মেকাপ রুমে আমজাদ হোসেন ঢুকে – যে গানটি এখন স্যুটিং করবো ” সময় হয়েছে ফিরে যাবার, মন কেনো যেতে চায় না ” এই গানটির আগের দৃশ্য আর পরের দৃশ্য তিনি লিখতেছিল আর আমি তার পাশে দাঁড়ানো –

এমন টাইমে – ওমরসানী মেকাপ রুমে ঢুকে এবং আমজাদ হোসেনের সামনে বসে এবং পায়ের উপর পা দিয়ে একটি সিগারেট ধরায় আর জিঙ্গেস করে – আমজাদ ভাই আমার ড্রেস ঠিক আছে আর জিঙ্গেস করে গানের আগে এবং পরের শিসিয়েশন টি বুঝিয়ে দেন, কথা গুলো বলছে আর পা নাড়াচ্ছে –

ঘটনাটি আমার চোখের সামনে ঘটে গেলো –

আমি মনে মনে ভাবলাম – ওমরসানী তুমি শেষ, কার সঙ্গে বেয়াদবি করলে – জানি না তোমার কপালে কি আছে –

সেই সময় =

এক দুমাস আগে – জেড এইচ মিন্টু প্রযোজিত আর রায়হান মুজিব – পরিচালিত ” আত্ন অহংকার ” ছবিটি মুক্তি পায় – ছবিটি এতোটাই ব্যাবসা করে যে – মাথা নষ্ট – ওমরসানীর –

যথারিতি – দুই দিন গানের স্যুটিং হলো, গান শেষ হলো – এরপর আর – জেড এইচ মিন্টুর অফিসে – আমজাদ হোসেন যায় না, তিনি আসিফ ম্যানশনের ৩য় তলায় তার নিজের অফিসে বসেন –

জেড এইচ মিন্টু সাহেবের অফিসে বসা – মিন্টু সাহেব আমাকে বললেন রাজ – দেখ তো আমজাদ ভাই তার অফিসে কি না – আমি তার অফিসে গেলাম, দেখলাম ওস্তাদ তার অফিসেই আছেন, আমি আবার মিন্টু ভাইকে গিয়ে বললাম –

তারপর মিন্টু ভাই নিজে গিয়ে তাকে নিয়ে আসলেন – মিন্টু ভাইয়ের অফিসে – এরপর আলাপ শুরু হলো, আমি বাহিরে বসে আছি সব শুনতেছি –

আমজাদ ভাই বললেন এই ছবি আমি করতে পারবো না, মিন্টু ভাই বললেন কেনো – উত্তরে আমজাদ হোসেন বললেন – তোমার নায়কের এই অবস্হা – মিন্টু ভাই তখন বললেন – তাহলে নায়ক বাদ

কথা এটাই ফাইনাল –

আবার ছবির গল্প পরিবর্তন করার জন্য – বি এন পির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাথেই একটি আবাসিক হোটেল বুকিং করা হলো ২ মাসের জন্য –

ছবির নাম ” ১ জন সন্ত্রাসী ” বাদ দিয়ে হয়ে গেল নতুন ছবি ” আদরের সন্তান ” এখানে ওমরসানীকে বাদ দিয়ে নেওয়া হলো – ইলিয়াস কান্চন কে আর বাঁকী শিল্পীরা ঠিক থাকলো –

শুরু হলো ” আদারের সন্তান ” ছবির স্যুটিং – এরপর স্যুটিং শেষ হলো, ছবি মুক্তি হলো, ছবি সুপারবাম্পার হিট হলো – এরপর বেশ কয়েকটি ছবি থেকে ওমরসানী বাদ পড়ে গেলো – শুরু তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হওয়া –

এই ঘটনার জীবন্ত বাস্তব সাক্ষি – আমি রবিউল ইসলাম রাজ –

তবে একটি কথা সত্য – ওমরসানীর মতো সুদর্শন নায়ক চলচ্চিত্রে আমার মনে হয় আগেও আসেনি এখনও আসবে না – এতোটাই হ্যান্ডসাম ফিগার ছিলো তার –

ওমরসানী ভাই আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন সুস্হ্য থাকুন – দোয়া রইল আমার পক্ষ থেকে

রবিউল ইসলাম রাজ

চলচ্চিত্র পরিচালক

 



লাইক করুন