একটু পেছনে ফিরে যাই:
১৯৯৩ সালের শেষের দিকে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ” ১জন সন্ত্রাসী ” ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হলো বারী স্টুডিও তে – আর ছবিটির প্রযোজক বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – জেড এইচ মিন্টু –
মহরতে উপস্হিত ছিলেন –
* আব্দুল জলিল মিন্টু ( এ,জে মিন্টু )
* আব্দুল লতিফ বাচ্চু ( বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – মিন্টু সাহেবের দাদা ওস্তাদ )
* মাহফুজুর রহমান খান ( বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান – মিন্টু সাহেবের ওস্তাদ)
* মজিবুর রহমান দুলু ( বিখ্যাত সম্পাদক )
* চাষী নজরুল ইসলাম ( বিখ্যাত পরিচালক )
* অজিত নন্দী ( প্রযোজক – মিন্টু সাহেবের পার্টনার)
* প্রবীর পাল ( প্রযোজক – মিন্টু সাহেবের পার্টনার)
* মোহাম্মদ হান্নান ( বিখ্যাত পরিচালক)
* কাজী হায়াৎ ( বিখ্যাত পরিচালক)
* আলাউদ্দীন আলী ( বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক -এবং এই ছবিরও সঙ্গীত পরিচালক)
* সোহানুর রহমান সোহান ( বিখ্যাত পরিচালক)
* আসাদুজ্জামান মজনু ( মিন্টু সাহেবের সহকারী)
* লাল মোহাম্মদ ( মিন্টু সাহেবের সহকারী)
ওনারা ছাড়াও আরো ৩০ জন পরিচালক উপস্হিত ছিলেন, আমি তাদের নাম বলতে পারছি না, কারন আমি নতুন ছিলাম – এই ছবিটিতে জীবনের প্রথম সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি –
মহরত শেষ এখন গানের স্যুটিং শুরু করবেন বিখ্যাত নৃত্য পরিচালক – আমির হোসেন বাবু
এই ছবিতে আমরা ৩ জন সহকারী পরিচালক ছিলাম –
১. হক ভাই
২. আহমেদ আলী মন্ডল ভাই
৩. আমি রবিউল ইসলাম রাজ
সেট থেকে মেকাপ রুমে আমাকে ডেকে নিলেন পরিচালক আমজাদ হোসেন – বললেন ক্লিপবোড টি নিয়ে আসো, আমি তার পেছনে পেছনে গেলাম – মেকাপ রুমে – সবাই মিষ্টি খাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত –
মৌসুমী তার মহরতের ড্রেস খুলে গানের ড্রেস পরতেছেন,
আর আমাকে নিয়ে একটি মেকাপ রুমে আমজাদ হোসেন ঢুকে – যে গানটি এখন স্যুটিং করবো ” সময় হয়েছে ফিরে যাবার, মন কেনো যেতে চায় না ” এই গানটির আগের দৃশ্য আর পরের দৃশ্য তিনি লিখতেছিল আর আমি তার পাশে দাঁড়ানো –
এমন টাইমে – ওমরসানী মেকাপ রুমে ঢুকে এবং আমজাদ হোসেনের সামনে বসে এবং পায়ের উপর পা দিয়ে একটি সিগারেট ধরায় আর জিঙ্গেস করে – আমজাদ ভাই আমার ড্রেস ঠিক আছে আর জিঙ্গেস করে গানের আগে এবং পরের শিসিয়েশন টি বুঝিয়ে দেন, কথা গুলো বলছে আর পা নাড়াচ্ছে –
ঘটনাটি আমার চোখের সামনে ঘটে গেলো –
আমি মনে মনে ভাবলাম – ওমরসানী তুমি শেষ, কার সঙ্গে বেয়াদবি করলে – জানি না তোমার কপালে কি আছে –
সেই সময় =
এক দুমাস আগে – জেড এইচ মিন্টু প্রযোজিত আর রায়হান মুজিব – পরিচালিত ” আত্ন অহংকার ” ছবিটি মুক্তি পায় – ছবিটি এতোটাই ব্যাবসা করে যে – মাথা নষ্ট – ওমরসানীর –
যথারিতি – দুই দিন গানের স্যুটিং হলো, গান শেষ হলো – এরপর আর – জেড এইচ মিন্টুর অফিসে – আমজাদ হোসেন যায় না, তিনি আসিফ ম্যানশনের ৩য় তলায় তার নিজের অফিসে বসেন –
জেড এইচ মিন্টু সাহেবের অফিসে বসা – মিন্টু সাহেব আমাকে বললেন রাজ – দেখ তো আমজাদ ভাই তার অফিসে কি না – আমি তার অফিসে গেলাম, দেখলাম ওস্তাদ তার অফিসেই আছেন, আমি আবার মিন্টু ভাইকে গিয়ে বললাম –
তারপর মিন্টু ভাই নিজে গিয়ে তাকে নিয়ে আসলেন – মিন্টু ভাইয়ের অফিসে – এরপর আলাপ শুরু হলো, আমি বাহিরে বসে আছি সব শুনতেছি –
আমজাদ ভাই বললেন এই ছবি আমি করতে পারবো না, মিন্টু ভাই বললেন কেনো – উত্তরে আমজাদ হোসেন বললেন – তোমার নায়কের এই অবস্হা – মিন্টু ভাই তখন বললেন – তাহলে নায়ক বাদ
কথা এটাই ফাইনাল –
আবার ছবির গল্প পরিবর্তন করার জন্য – বি এন পির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাথেই একটি আবাসিক হোটেল বুকিং করা হলো ২ মাসের জন্য –
ছবির নাম ” ১ জন সন্ত্রাসী ” বাদ দিয়ে হয়ে গেল নতুন ছবি ” আদরের সন্তান ” এখানে ওমরসানীকে বাদ দিয়ে নেওয়া হলো – ইলিয়াস কান্চন কে আর বাঁকী শিল্পীরা ঠিক থাকলো –
শুরু হলো ” আদারের সন্তান ” ছবির স্যুটিং – এরপর স্যুটিং শেষ হলো, ছবি মুক্তি হলো, ছবি সুপারবাম্পার হিট হলো – এরপর বেশ কয়েকটি ছবি থেকে ওমরসানী বাদ পড়ে গেলো – শুরু তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হওয়া –
এই ঘটনার জীবন্ত বাস্তব সাক্ষি – আমি রবিউল ইসলাম রাজ –
তবে একটি কথা সত্য – ওমরসানীর মতো সুদর্শন নায়ক চলচ্চিত্রে আমার মনে হয় আগেও আসেনি এখনও আসবে না – এতোটাই হ্যান্ডসাম ফিগার ছিলো তার –
ওমরসানী ভাই আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন সুস্হ্য থাকুন – দোয়া রইল আমার পক্ষ থেকে
রবিউল ইসলাম রাজ
চলচ্চিত্র পরিচালক