বিশেষ প্রতিনিধি:
জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম জেলা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব এলাকায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে কিছু চক্রের। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সাত জেলার এসপি, সব রেঞ্জের ডিআইজি এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার না থাকলেও তার পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। চলবে ব্যাপক ধরপাকড়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কেউ যেন বাদ না পড়ে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে বলা হয়। নিরাপত্তা পরিকল্পনা এমনভাবে সাজাতে বলা হয়, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে কোনো অপকর্ম করতে না পারে।
সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ৫ হাজার ৭৫৩টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬৩টি এখনো উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭২০ রাউন্ড। দ্রুত এসব উদ্ধার এবং অস্ত্র মজুদের খোঁজে তৎপরতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। আন্দোলনের আড়ালে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গ। নির্দেশ দেওয়া হয়, নিয়োগে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা দালালচক্রের প্রভাব যেন না পড়ে। প্রার্থীরা যেন প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে সজাগ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয় সভায়। এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, চট্টগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।