মেহেদী হাসান পান্না, বিশেষ প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে পুকুরে ফেলে হত্যা করার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হলে সমাজে প্রাণী নির্যাতন বন্ধ করা কঠিন হবে—এমনই মত প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান সহ দেশের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি।
জয়া আহসান তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা এমন স্বভাবহীন কাজ করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি দাবি করছি।” তাঁর এই পোস্টে হাজার হাজার মানুষ প্রাণী নির্যাতন আইনের আরও কঠোর প্রয়োগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরের সরকারি বাসভবনের আঙিনায়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সেখানে একটি কুকুর আটটি ছানা জন্ম দেয়। ৩০ নভেম্বর রাতে ওই সরকারি আবাসিক এলাকায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি আক্তার বস্তাবন্দি করে ওই কুকুরছানাদের পুকুরে ফেলে হত্যা করেন। পরের দিন সকালে মা কুকুরটি পুকুরের পাশে ছোটাছুটি ও আর্তনাদ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে পুকুর থেকে একটি বস্তা ভাসতে দেখা যায়, যার মধ্যে আটটি মৃত কুকুরছানা পাওয়া যায়।
ঘটনার তীব্র নিন্দায় ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে সরকারি বাসভবন ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হাসানুর রহমান ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনে কর্মরত। এছাড়া পুলিশ সোমবার রাতে নিশি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে এবং ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারায় মামলাও করেছেন।
এই নিষ্ঠুরতা শুধুমাত্র পশু নিধন নয়, এটি একটি সামাজিক সংকেত যে, প্রাণী অধিকার রক্ষায় আমাদের আইনের কঠোর বাস্তবায়ন কতটা জরুরি। প্রাণী নির্যাতন শুধু পশুদের প্রতি অবিচার নয়, বরং এটি মানবিক মূল্যবোধেরও অবনতিকে নির্দেশ করে। সমাজে এমন ঘটনা বন্ধ করতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য। পাশাপাশি, মানুষকে প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতা শেখাতে হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে পাঠকরা বুঝতে পারবেন, প্রাণী নির্যাতন আইনের কার্যকর প্রয়োগের গুরুত্ব কতটা এবং আমাদের চারপাশের জীবজগতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা কত জরুরি। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত প্রাণী প্রতিরক্ষা ও কল্যাণে সচেতন হওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা আর না ঘটে।