আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার সুবর্ণসারা কাঠের পুল থেকে মুকুন্দগাতী কড়ইতলা পর্যন্ত ওয়াবদার খাল দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ দূষণের শিকার হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রসেসর মিলের বিষাক্ত বর্জ্য পানি ও কচুরিপানা জমে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক মশার উপদ্রব ও দুর্গন্ধ, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পানি কালচে হয়ে পচে গেছে এবং তার উপর ভাসছে কচুরিপানা ও বিভিন্ন আবর্জনা। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে ঘরের বাইরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধে অনেক সময় ঘরের ভেতরেও থাকা যায় না।
এদিকে, পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় মুকুন্দগাতী বাজার এলাকায় সরকারি শ্যাম কিশোর স্কুল ও পুরাতন ইসলামী ব্যাংকের সামনে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বেলকুচি সরকারি কলেজ ও মহিলা ডিগ্রি কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হয়। পরিবেশ দূষণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকার সচেতন মহল দ্রুত খালটি পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং মিলগুলোর বর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারেএ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় পুর্ব থেকে ঐখানে ময়লা ফেলা হয়েছে, পৌরসভার নিজেস্ব জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থান নির্ধারণ করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি খুব দ্রুত স্থান নির্ধারিত হবে, তখন এই ধরনের সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।