আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার সহযোগী হিসেবে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, তোফাজ্জল ও আল-আমিন মালের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বটতলা গরুরহাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে রোববার রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় গোপালপুর বটতলা এলাকার স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে মাছ ভেসে বের হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের দাবি, এতে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মৎস্যচাষীরা জানান, “কে বা কারা স্লুইসগেট খুলেছে তা প্রশাসন তদন্ত করে বের করুক। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার নাম আলোচনায় রয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে গোপালপুর বটতলা বাজারের ব্যবসায়ীরাও অভিযোগ করেন, হাশেম আলীর দোকানের সামনে সুতার গাড়ি দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা বৈধভাবে ব্যবসা করি। অথচ জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জমি মাপঝোক নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল মোল্লার নেতৃত্বে রিয়াজ (২২) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। এছাড়াও ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মাদক বিক্রির অভিযোগে তিনি কারাভোগ করেছেন বলেও এলাকাবাসীর দাবি।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন, “স্লুইসগেটের চাবি তার কাছে ছিল কি না, সেটি নিশ্চিত নই। তবে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আমরা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা যাচাই করা হচ্ছে।”