শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু একমাসে এআই ট্রাফিক মামলায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা জরিমানা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতে ১ যুবকের মৃ ত্যু,আহত ১  চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামি গ্রেফতার ইসলামী ব্যাংকের আমানতের নিরাপত্তা ও চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বীরগঞ্জে গ্রাহক সমাবেশ পাঁচ ডিআইজি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও সম্মাননা পেলেন মণিরামপুরের ইউএনও সম্রাট হোসেন আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবীতে মানববন্ধন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পেলেন শরীফুজ্জামান

ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ছয়টি জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তিন নারী, একজন কলেজশিক্ষক ও একজন কিশোর। এ ছাড়া কমপক্ষে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বোচ্চ পাঁচজন, ময়মনসিংহে দুজন এবং নীলফামারী, পঞ্চগড়, বগুড়া ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে মারা গেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঁচজনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। জেলার তিনটি উপজেলায় বিকেলে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল-এই তিনজনই মারা যান বাড়ি সংলগ্ন আম বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, তিনজনই বৃষ্টির মধ্যে আম বাগানে থাকার সময় বজ্রপাতের শিকার হন।

সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাহত হন মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ। স্থানীয়রা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাচোল উপজেলার লাহপাড়ায় মাঠে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাহত হয়ে মারা যান লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম। নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তিন উপজেলায় নিহত পাঁচটি পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় সকাল সাড়ে ১০টায় বাড়ির আঙিনায় ধানের কাজ করার সময় বজ্রাহত হন পাগলা থানার পাঁচভাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে সিয়াম (২৮)। পরিবারের সদস্যরা তাকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একই জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় দুপুর সোয়া একটায় বজ্রপাতে মারা যান গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬)। তিনি বড়গ্রাম ইউনিয়নের রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত হাজী ইউসুফ আলীর ছেলে। কলেজ বন্ধ থাকায় নিজ গ্রামে একটি মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন তিনি। বৃষ্টি শুরু হলে পাশের একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বজ্রাহত হন। মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সায়েম তানভীর জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নীলফামারীতে একজনের মৃত্যু, একজন আহত

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় সন্ধ্যায় বজ্রপাতে নুরুল ইসলামের ছেলে আলম ইসলাম (৪০) নিজ বাড়ির পাশে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই ঘটনায় পাশে থাকা প্রতিবেশী গৃহবধূ সেরিনা বেগম (৩০) গুরুতর আহত হন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান জানান, আহত গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত আলী সরকার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ে তরুণের মৃত্যু

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় বিকেলে বজ্রপাতে কেরামত আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেন (১৯) মারা যান। ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কর্মরত শাহাদাত ফসলি জমি থেকে ভুট্টা পরিবহন করছিলেন। ট্রাক্টরের চাকা মাটিতে দেবে যাওয়ায় বেলচা আনতে বাড়িতে যান এবং ফেরার পথে বজ্রাহত হন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ায় কিশোরের মৃত্যু, মা আহত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রাহত হয়ে মারা যায় আফাল উদ্দিনের ছেলে রাব্বি হোসেন (১৫)। একই সময় তার মা মনিকা বেগম গুরুতর আহত হন। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় ছাদে বজ্রপাত, একজন নিহত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের নান্দবার গ্রামে বিকেলে বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদে বসে থাকার সময় বজ্রাহত হয়ে মারা যান জাহাঙ্গীরের ছেলে নাফিজ আহমেদ শান্ত (২৮)। একই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাহিদ (২৩) গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বজ্রপাতের সময় পাশের একটি নারিকেলগাছে আগুন ধরে যায় এবং দুই যুবক অচেতন হয়ে পড়েন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকাইয়া জানান, সন্ধ্যা সাতটার দিকে অচেতন অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নাফিজকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নাহিদকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান নিহত ও আহত দুজনের পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।



লাইক করুন