শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু একমাসে এআই ট্রাফিক মামলায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা জরিমানা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতে ১ যুবকের মৃ ত্যু,আহত ১  চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামি গ্রেফতার ইসলামী ব্যাংকের আমানতের নিরাপত্তা ও চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে বীরগঞ্জে গ্রাহক সমাবেশ পাঁচ ডিআইজি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইউএনও সম্মাননা পেলেন মণিরামপুরের ইউএনও সম্রাট হোসেন আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবীতে মানববন্ধন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পেলেন শরীফুজ্জামান

স্থানীয় নির্বাচন: অঙ্গীকারনামা বাদ, বাড়ছে জামানত

নিজস্ব প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে না বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে নির্বাচনি জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে। তার মতে, অঙ্গীকারনামা থাকা বা না থাকার কারণে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনো বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয় না।

ইসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিধিবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১০ জুনের মধ্যে খসড়া অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন। চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরু করা হবে। কারণ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোট প্রয়োজন হয়। এ কারণে সর্বনিম্ন স্তরের নির্বাচন আগে সম্পন্ন করার বিষয়ে কমিশনের মধ্যে ইতিবাচক মতামত রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পৌরসভা নির্বাচনে এক লাখ বা তার বেশি ভোটারসংবলিত এলাকায় মেয়র পদের জামানত ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে বড় সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়র পদে জামানত ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে জামানত ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং নারী সদস্য পদে ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

একজন নির্বাচন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের কাঠামোগত প্রয়োজনের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরু করা উচিত। এছাড়া জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় অক্টোবরের আগে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই নির্বাচন উপযোগী এবং নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো আইনি জটিলতা নেই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনি ক্যালেন্ডারভিত্তিক একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে। এতে সর্বশেষ নির্বাচন, গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ, প্রথম সভা, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং মামলাসংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট অনুমোদন ও বিধিবিধানের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।



লাইক করুন