আব্দুর রাজ্জাক বাবু,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে বন্যা প্রস্তুতি ও জেলা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ. কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি), স্টার্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতায়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. আফসানা ইয়াসমিন।
কর্মশালায় বন্যা প্রস্তুতি ও আগাম জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, ডিএসবি পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. আজিজুর রহমান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিরাজগঞ্জের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. আনোয়ারুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন রশিদ খান হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন এনডিপির উপ-পরিচালক কাজী মাসুদুজ্জামান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শিক্ষা বিষয়ক উপ-ব্যবস্থাপক শিপন চন্দ্র নাগ।
কর্মশালায় বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন সতর্কতা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার—এই তিন ধাপে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বন্যার পূর্বে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি খাদ্য ও ওষুধ মজুত রাখা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা এবং গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। বন্যাকালে নিরাপদ স্থানে অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি পান, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা এবং শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে বাড়িঘর জীবাণুমুক্ত করা, পানিবাহিত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।