মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ ছাত্রশিবিরের স্কুল ভর্তি লটারির অবসান, পরীক্ষা ভিত্তিক ব্যবস্থা শুরু এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী মঙ্গলবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু মার্কিন রণতরিকে সহায়তাকারীদের হামলার হুমকি ইরানের পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ঝুঁকিতে করদাতার টাকায় কেনা শাড়ি-থ্রি পিসে দলীয় বৈষম্য? দিনাজপুর-৫ বঞ্চিত—দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ তেলের কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী

অনেক মানুষ আছে যারা সম্পর্কের মধ্যে থেকে কখনো সরাসরি মিথ্যা বলে না। আবার পুরো সত্যটাও বলে না।

মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় Selective Honesty Pattern। এখানে মানুষ এমনভাবে কথা বলে, যাতে বাস্তবতার একটা অংশ দেখা যায়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নীরবে লুকিয়ে থাকে। ফলে বাইরে থেকে মনে হয় সে সৎ, কিন্তু সম্পর্কের ভেতরের স্বচ্ছতাটা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। মানুষ সাধারণত হঠাৎ করে বড় প্রতারণা দিয়ে শুরু করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুরুটা হয় ছোট ছোট সত্য লুকানো দিয়ে। কোথায় ছিল সেটা না বলা, কার সাথে কথা হয়েছে সেটা এড়িয়ে যাওয়া, বা এমন কিছু বিষয়কে “অপ্রয়োজনীয়” বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া।

Psychology বলে, এই আচরণের পেছনে কাজ করে Cognitive Dissonance Reduction। মানুষ নিজের কাজের সাথে নিজের নৈতিক ধারণার দ্বন্দ্ব কমাতে চায়। তাই সে নিজের ভেতরে একটা যুক্তি তৈরি করে –

“আমি তো মিথ্যা বলিনি।”

“সব কিছু বলার দরকারও নেই।”

“এতে কাউকে আঘাত দিতে চাইনি।”

এই যুক্তিগুলো তাকে নিজের কাছে নির্দোষ থাকতে সাহায্য করে।

Neuroscience অনুযায়ী, যখন কেউ বারবার কিছু তথ্য লুকায়, তখন তার ব্রেইন সেই আচরণকে ধীরে ধীরে Self-Protection Strategy হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে। অর্থাৎ সত্য বলা নয়, পরিস্থিতি সামলানোই তার কাছে নিরাপদ মনে হয়। ফলে একসময় মানুষ সত্যের সাথে নয়, বরং নিজের তৈরি ব্যাখ্যার সাথে বেশি আরাম বোধ করে। এই ধরনের সম্পর্কের সমস্যা হলো এখানে বড় কোনো নাটকীয় ঘটনা থাকে না। কেউ হঠাৎ করে ধরা পড়ে না। কেউ হয়তো স্পষ্টভাবে প্রতারণাও করে না।

কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু জিনিস বদলে যায়। প্রশ্নের উত্তরগুলো ছোট হয়ে যায়। কিছু বিষয় নিয়ে কথা উঠলেই অস্বস্তি তৈরি হয়। কিছু সত্য বারবার এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মনোবিজ্ঞানে এটাকে অনেক সময় Information Withholding Pattern বলা হয়। যেখানে মানুষ সরাসরি মিথ্যা না বলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আড়ালে রাখে। সবচেয়ে কঠিন বিষয় কী জানেন? যে মানুষটা অর্ধেক সত্য বলে, সে প্রায়ই মনে করে সে ভুল কিছু করছে না। কারণ তার কাছে এটা প্রতারণা না, এটা শুধু “সব না বলা।” কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস তৈরি হয় স্বচ্ছতার উপর। যখন সত্যের কিছু অংশ বারবার লুকানো হয়, তখন ধীরে ধীরে সেই বিশ্বাসের ভিত্তিটাই দুর্বল হয়ে যায়।

অনেক মানুষ পরে গিয়ে বলে -“আমি তো কখনো মিথ্যা বলিনি।”

কিন্তু Psychology বলে, বিশ্বাস ভাঙতে সবসময় মিথ্যা লাগে না। অনেক সময় সত্য লুকানোই যথেষ্ট। কারণ বিশ্বাস শুধু কথার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না, বিশ্বাস দাঁড়িয়ে থাকে এই অনুভূতির উপর যে মানুষটা আমার সামনে আছে, সে আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছে না।

কলমেঃ

এ্যাড, তামান্না আফরিন

সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট আপিল ডিভিশন)

ঢাকা ও আইন উপদেষ্টা

জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ

রামপুরা, বনশ্রী

ঢাকা -১২০৫



লাইক করুন