বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে নববুধসহ দু নারীর মৃত্যু অযত্ন-অবহেলায় ঝোপজঙ্গলে ঢেকেছে বেলকুচি টেলিফোন অফিস, পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবনের অভিযোগ তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির অর্থায়নে গ্রামবাসীর একমাত্র চলাচলের রাস্তার কাজ বন্ধ চলাচলের রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর তাড়াশে অবরুদ্ধ ৪০টি পরিবার তাড়াশে গ্রাম্য বিরোধে একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ দুটি পরিবার এনায়েতপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাসমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এনায়েতপুরে নারী হেল্প ডেক্স সেবা সম্পর্কে অবগত করন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত ‎ সলঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরায় অপহরণের চেষ্টা, ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা বেলকুচিতে প্রভাব দেখিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, আতঙ্কে বৃদ্ধ পরিবার  দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান, পাকা সড়কে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর

“বাচ্চার মুখ চেয়ে সব সহ্য করছি”—এই একটা বাক্য বলে আপনি আপনার সন্তানকে বাঁচাচ্ছেন না, বরং তাকে একটা জীবন্ত কবরের ভেতর বড় করছেন।

চলুন আজ ‘মিতু’র গল্প শুনি। মিতুর স্বামী প্রতিদিন তাকে অপমান করে, গায়ে হাত তোলে। মিতু সব মুখ বুজে সয়, কারণ তার ৫ বছরের একটা ছেলে আছে। সে ভাবে, বাবা-মা আলাদা হয়ে গেলে বাচ্চার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।

ধরুন, একটা ছোট চারাগাছ বড় হচ্ছে এমন এক জায়গায় যেখানে প্রতিদিন অ্যাসিড বৃষ্টি হয়। আপনি ভাবছেন গাছটা বেঁচে আছে এটাই বড় কথা। কিন্তু আসলে কি গাছটা কোনোদিন ফল দেবে? না, ওটা ভেতরে ভেতরে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

আপনার সন্তান যখন প্রতিদিন আপনাকে কাঁদতে দেখে, আপনার ওপর অত্যাচার হতে দেখে, তখন তার ছোট্ট মাথায় একটা ধারণা গেঁথে যায়, “সংসার মানেই মারামারি, আর ভালোবাসা মানেই সহ্য করা।”

সে যখন বড় হবে, সে হয় আপনার মতো নির্যাতিত হবে, না হয় তার বাবার মতো অত্যাচারী হবে। মাঝখানে কোনো সুস্থ জায়গা সে চিনবে না। আপনি ভাবছেন আপনি ত্যাগ করছেন, আসলে আপনি আপনার সন্তানের অবচেতন মনে একটা বিষাক্ত বীজ বুনে দিচ্ছেন।

এই যে “বাচ্চার ভবিষ্যৎ”, এটা আসলে আপনার এক ধরণের ইলিউশন বা মরীচিকা। অশান্তির সংসারে বেড়ে ওঠা একটা বাচ্চা কখনোই মানসিকভাবে সুস্থ থাকে না। সে সবসময় একটা অ্যাংজাইটি আর ভয়ের মধ্যে থাকে। তার কাছে ‘ঘর’ কোনো শান্তির জায়গা নয়, বরং একটা আতঙ্কের নাম।

পরিণত মানুষ হিসেবে আপনার বোঝা উচিত, একটা ভাঙা ঘরে শান্তিতে থাকা, একটা জ্বলন্ত প্রাসাদে পুড়ে মরার চেয়ে অনেক ভালো। আপনি যদি নিজে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তবে ওই বাচ্চাকে আপনি ছায়া দেবেন কীভাবে?

বাচ্চার মুখ চেয়ে যদি কিছু করতেই হয়, তবে তাকে একটা সুস্থ পরিবেশ দিন। যেখানে সম্মান নেই, সেখানে টিকে থাকাটা ত্যাগ নয়, সেটা চরম বোকামি।

আপনার এই তথাকথিত ‘ত্যাগ’ কি আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ছে, নাকি তাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে? একবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো।

কলমেঃ

ইয়াসির আরাফাত মিলন

সম্পাদক ও প্রকাশক

জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ

রামপুরা, বনশ্রী

ঢাকা -১২০৫



লাইক করুন