মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দামুড়হুদায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত তরিকুল আটক: ধামাচাপার চেষ্টা নস্যাৎ এনায়েতপুর থানা জামায়াতের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারে সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ঈদ উপহার প্রদান রাতের শহর ছাপিয়ে আমার ঘরে সাম্যের কবি কাজী নজরুল  দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসে রায়,মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের ফাঁসি আদেশ  চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত তরিকুল আটক: ধামাচাপার চেষ্টা নস্যাৎ ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে শামীমের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নেক্সজেন গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপে নির্বাচিত হলেন কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল আহসান আলভী চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সুফি সালমা পারভীনের উদ্যোগে রামেসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সভা রূপ থাকলে ধরে দেবো ,না থাকলে গড়ে দেবো

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসে রায়,মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের ফাঁসি আদেশ 

মোঃ কামাল হোসেন খাঁন,মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি মহেেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে স্বাক্ষী জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।

ফাঁসি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশ্ববর্তী পাট খেতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।

মামলার তদন্ত রিপোট পুলিশ দাখিলের পর আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য প্রমাণে এবং মেডিকেল পরীক্ষা রিপোর্টে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে গণমাধ্যম কর্মীরা সহ আসামিপক্ষে আইনজীবী ও অন্য আইনজীবী, ধর্ষক উপস্থিত থেকে রায় শ্রবণ করেন। অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেন।



লাইক করুন